খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
উত্তর আমেরিকার মাটিতে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় আসর ‘নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা’ আগামী ২২ মে থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। ১৯৯২ সালে পথচলা শুরু করা এই আয়োজনটি এ বছর সাফল্যের ৩৫তম মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে। ‘যত বই, তত প্রাণ’—এই স্লোগানকে হৃদয়ে ধারণ করে চার দিনব্যাপী এই উৎসবটি চলবে ২৫ মে পর্যন্ত। গত বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেলার আয়োজক সংস্থা ‘মুক্তধারা ফাউন্ডেশন’ বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরে।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ নজরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, ৩৫ বছরের এই দীর্ঘ সফর বাংলা ভাষার বৈশ্বিক প্রসারের এক অনন্য ইতিহাস। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এবারের মেলা আমেরিকার মূলধারার সংস্কৃতির সাথে বাংলা সাহিত্যের যোগসূত্রকে আরও দৃঢ় করবে। বইমেলা কেবল বিক্রয়কেন্দ্র নয়, বরং এটি প্রবাসী বাঙালিদের মিলনমেলায় পরিণত হবে। মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই মেলা বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা লেখকদের একসূত্রে গেঁথেছে।
নিউইয়র্ক বইমেলার একটি ঐতিহ্যবাহী বৈশিষ্ট্য হলো এর উদ্বোধনী প্রথা। দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, বরং প্রথিতযশা লেখকদের মাধ্যমেই মেলার সূচনা করা হয়। এই প্রথাটি প্রবাসে বাংলা সাহিত্যের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার একটি অনন্য উদাহরণ।
| বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| আয়োজক সংস্থা | মুক্তধারা ফাউন্ডেশন |
| মেলার ভেন্যু | জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টার, নিউইয়র্ক |
| তারিখ | ২২ থেকে ২৫ মে, ২০২৬ |
| প্রতিষ্ঠা বছর | ১৯৯২ সাল (নিউইয়র্ক) |
| অংশগ্রহণকারী | বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের লেখক, পাঠক ও প্রকাশক |
| মেলার স্লোগান | যত বই, তত প্রাণ |
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, বিগত বছরগুলোতে আনিসুজ্জামান, সৈয়দ শামসুল হক, হুমায়ূন আহমেদ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এবং শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের মতো কিংবদন্তি সাহিত্যিকরা এই মেলার উদ্বোধন করেছেন। এছাড়াও নির্মলেন্দু গুণ, সেলিনা হোসেন ও আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের মতো গুণীজনেরা এই মেলাকে অলঙ্কৃত করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফারুক আজমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক শামীম রেজা, কবি মঈনুদ্দিন মুন্সী এবং জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন। উপস্থিত ছিলেন অনন্যা প্রকাশনীর মনিরুল হক এবং আকাশ পাবলিশার্সের আলমগীর সিকদারসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশকরা। এই উৎসবটি কেবল বই কেনাবেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রবাসে বাংলা ভাষা রক্ষার এক শক্তিশালী সাংস্কৃতিক আন্দোলনে রূপ নেবে বলে আয়োজকরা বিশ্বাস করেন।