খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৪ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
শিখন ক্ষয় পূরণের উদ্দেশ্যে চলতি বছরের রমজান মাসজুড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ১০টি শনিবার খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রমজানকালীন ছুটির কারণে ঘটে যাওয়া শিক্ষার ঘাটতি পূরণ করা হবে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক মো. অয়নাল আবেদীন স্বাক্ষরিত পরিপত্রে এ বিষয়ে সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, রমজান মাসে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানের অভাবে শিক্ষার ক্ষয় ঘটেছে। তাই রমজানের ছুটি শেষে বিদ্যালয়গুলোতে শ্রেণিকক্ষে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার পরবর্তী ১০টি শনিবার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এতে শিক্ষার্থীরা তাদের শিখন ক্ষয় পূরণ করতে পারবে এবং শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
মন্ত্রণালয় সকল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছে যে, বিদ্যালয় খোলার আগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া বিদ্যালয়ের ছুটি পুনঃনির্ধারণ, শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা ও পাঠদান সূচি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| লক্ষ্য | রমজান মাসজুড়ে শিখন ক্ষয় পূরণ |
| কার্যক্রম | ১০টি শনিবার বিদ্যালয় খোলা, পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা |
| প্রযোজ্য বিদ্যালয় | সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ |
| নির্দেশপ্রদান কর্তৃপক্ষ | প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপপরিচালক মো. অয়নাল আবেদীন স্বাক্ষরিত |
| কার্যক্রমের সময়কাল | রমজানের ছুটি শেষ হওয়া থেকে পরবর্তী ১০টি শনিবার পর্যন্ত |
| প্রস্তুতি | শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর প্রস্তুতি নিশ্চিতকরণ, শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা ও পাঠদান সূচি পুনর্গঠন |
| প্রাপকেরা | জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলো |
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদ্যালয় খোলার এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগে তাদের শেখার সুযোগ পূর্ণ করতে পারবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রমজান মাসে স্কুল বন্ধ থাকার ফলে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মৌলিক জ্ঞান ও পাঠ্যক্রমে অন্তর্বর্তী ক্ষতি হতে পারে। তাই শনিবার খোলার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য সমন্বিত ও সুফলপ্রদ পদক্ষেপ হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে নির্ধারিত পাঠ্যসূচি অনুযায়ী শিখন কার্যক্রমে কোনও ব্যাঘাত ছাড়া অংশগ্রহণ করতে পারবে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে বিদ্যালয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীর সামগ্রিক জ্ঞান অর্জন ও শ্রেণিকক্ষে সক্রিয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা হবে।