খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫
কুমিল্লার মুরাদনগরে গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলার দ্রুত তদন্ত ও বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। অন্যদিকে ধর্ষণের শিকার সেই নারী বলছেন, তিনি আর মামলা চালিয়ে যেতে চান না।
গত ২৬ জুন রাতে উপজেলার রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বাহেরচর পাঁচকিত্তা গ্রামে গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি, স্থানীয় শহীদ মিয়ার ছেলে ফজর আলী (৩৮), কৌশলে ওই নারীর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। ঘটনার সময় ওই নারীর বাবা-মা বাড়ির বাইরে ছিলেন। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে অভিযুক্তকে ধরে মারধর করে ও ভিডিও ধারণ করেন। পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেই ভিডিও।
ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী নিজেই মুরাদনগর থানায় ফজর আলীকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ মামলা করেন। মামলার এজাহারে জানা যায়, প্রবাসে থাকা স্বামীর অনুপস্থিতিতে টাকা ধার দেওয়ার সূত্রে ভুক্তভোগীর সঙ্গে ফজর আলীর পরিচয় হয়। ওই নারীর দুটি সন্তান রয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পরই হাইকোর্টে রিট হয়। ওই রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের বেঞ্চ ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরাতে নির্দেশনা দেন আদালত।
আদালত আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত অগ্রগতির প্রতিবেদন দাখিল করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং ১৪ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
তবে রবিবার (২৯ জুন) গণমাধ্যমকে ভুক্তভোগী জানান, তিনি মামলা তুলে নিতে চান। তার ভাষায়, ‘আমি ফজর আলীর বিচার চাই না। আমি শান্তি চাই। স্বামী বলেছেন, মানসম্মান যা যাওয়ার তা তো গেছেই, এখন মামলা করে আর কী হবে! তাই নিজেই মামলা তুলে নিচ্ছি। তার দাবি, এই মামলা তোলার জন্য কেউ কোনো চাপ দেননি, তবে স্বামীর পরামর্শেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।’
এর আগে পুলিশ জানায়, মামলার প্রধান আসামি ফজর আলীকে ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ভিডিও ধারণ ও ছড়ানোর ঘটনায় পাঁচকিত্তা গ্রামেরই অনিক, সুমন, রমজান ও বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
খবরওয়ালা/এন