খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
স্ত্রী প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে গেছেন; সঙ্গে নিয়ে গেছেন দুই সন্তান, ৯ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এ নিয়ে গ্রামে নানা হাসিঠাট্টা ও কটু কথায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মুন্সিগঞ্জের কামাল হোসেন (৩৯)। তবে তিনি নতুন করে সংসার শুরু করেছেন নূপুর আক্তারের সঙ্গে। বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখতে নববধূকে এনেছেন হেলিকপ্টারে।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার কাঠাদিয়া গ্রামে এ দৃশ্য দেখা যায়।
কামালের পরিবার সূত্রে জানা যায়, কাঠাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা কামাল পেশায় একজন বেসরকারি সার্ভেয়ার ও জমির ব্যবসায়ী। প্রায় ১০ বছর আগে তিনি প্রথম বিয়ে করেন। সংসারে দুটি মেয়ে—একজনের বয়স ৮, অন্যজনের ২। এ সময় মুন্সিগঞ্জ শহরের একটি বিপণিবিতানে কর্মরত এক বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তাঁর স্ত্রী। গত ১০ আগস্ট তিনি সংসার ছেড়ে পালিয়ে যান এবং পরে কামালকে তালাক দেন।
স্ত্রীর চলে যাওয়ার দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ান একই গ্রামের তরুণী নূপুর আক্তার (২৪)। শুক্রবার দুপুরে হেলিকপ্টারে চড়ে নববধূ নূপুর আসেন কামালের বাড়ি। বিয়েকে কেন্দ্র করে গ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। বিয়ে উপলক্ষে দুই মেয়েকেও বাড়িতে আনেন কামাল।
কামাল হোসেন বলেন, ‘একটা সময় ভেবেছিলাম এ জীবন আর রাখব না। ঠিক সে সময় ভালোবাসা নিয়ে আমার জীবনে এসেছে নূপুর ও তাঁর পরিবারের লোকজন। তাই আমি দ্বিতীয়বার বিয়েতে রাজি হই। প্রথম স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ার আগে ভেবেছিলাম এবার বিবাহবার্ষিকীতে হেলিকপ্টারে করে ঘুরব। যেহেতু সে পালিয়ে গেছে, সব জেনেশুনে নূপুর বিয়েতে রাজি হয়েছে, তার ভালো মানসিকতাকে সম্মান দেখাতে বিয়ে করে হেলিকপ্টারে এনেছি।’
নববধূ নূপুর আক্তার বলেন, ‘সবকিছু জেনেশুনে কামালের মতো একজন ভালো মানুষের সঙ্গে আমার পরিবার বিয়ে দিতে সম্মত হয়। আমিও তাতে খুশি মনে রাজি হই।’
নূপুরের মামা রিমন দেওয়ান বলেন, ‘আমরা কামালকে ছোট থেকে চিনি। তিনি ভালো মানুষ। এ কারণেই আমরা নূপুরকে তাঁর হাতে তুলে দিয়েছি। গ্রামের মানুষও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।’
খবরওয়ালা/শরিফ