খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ আগস্ট ২০২৫
গল্পটা বাসি হলেও মাঝে-মধ্যে চাঙ্গা হয়ে ওঠে। আওয়াজ ওঠে, আবার থেমেও যায়। তবে এই মুহূর্তে আওয়াজ ভারী হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এবার নাকি কিছু একটা হবেই। চায়ের টেবিলে ঝড়, রাজনৈতিক অফিসে সমীকরণ আর গুঞ্জনে সরগরম চারদিক। এমনকি নিউজরুমগুলোতেও গুঞ্জন ডালপালা মেলেছে। সবকিছু ঘিরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন।
তার ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে— তাকে সরিয়ে অন্য কাউকে বেছে নেওয়া হতে পারে, এমন কথাবার্তাই ছড়াচ্ছে। বিকল্প নামটাও বহুল পরিচিত। প্রশ্ন হলো, আসলেই কি কিছু ঘটছে? নির্বাচন সামনে রেখে এই মুহূর্তে ড. ইউনূস কেন এত বড় ঝুঁকি নেবেন, সেটিও আলোচনায়। সংবিধান কাটাছেঁড়া করতে হলে তা বড় ঝুঁকিপূর্ণ হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রেসিডেন্টকে অসাংবিধানিকভাবে সরানো হলে সংকট কমবে না, বরং বাড়বে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ হলে রাজনৈতিক মেরুকরণ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক স্থবিরতা দেখা দিতে পারে। আন্তর্জাতিক অঙ্গন ও বিশ্ব গণমাধ্যমে সমালোচনার ঝড়ও উঠতে পারে।
তবে প্রেসিডেন্টকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অলিখিত এক নির্দেশনা থেকে। বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলোতে প্রেসিডেন্টের ছবি নামিয়ে ফেলার বার্তা যায়। ৫ আগস্টের পর থেকেই ছবি নামানোর কাজ শুরু হয়, সর্বশেষ ১৫ আগস্ট লন্ডন হাইকমিশন থেকে ছবিটি নামানো হয়। সরকারের যুক্তি— যেখানে সরকার প্রধানের ছবি নেই, সেখানে প্রেসিডেন্টের ছবির প্রয়োজন নেই। সমালোচকরা অবশ্য প্রশ্ন তুলছেন, এক বছর পর হঠাৎ এমন নির্দেশনার কারণ কী।
সূত্র জানায়, প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু সবুজ সংকেত পাননি। কারণ, তার অনুপস্থিতি সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী স্পিকার দায়িত্ব নিলেও তিনি পদত্যাগ করেছেন। ডেপুটি স্পিকার কারাগারে। বিকল্প হিসেবে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেয়ার সুযোগ থাকলেও তা দীর্ঘ প্রক্রিয়াসাপেক্ষ।
প্রেসিডেন্টকে সরাতে অভ্যুত্থান-চেষ্টাকারীরা আগে থেকেই সক্রিয়। বঙ্গভবন ঘিরে কর্মসূচিও হয়েছে। তবে বড় রাজনৈতিক দলগুলো আঁচ করতে পেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেয়নি। সামনে দলগুলোর অবস্থান প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিনের ভবিষ্যত নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্বাচন ঘিরে অন্তরালে নানা তৎপরতা চলছে, প্রেসিডেন্ট ইস্যু সেই তৎপরতার অংশ কিনা তা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে।
খবরওয়ালা/টিএসএন