খবরওয়ালা আন্তরজাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫
ইউক্রেনের নেতৃত্ব দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটক। শুক্রবার (২১ মার্চ) মার্কিন সাংবাদিক টাকার কার্লসনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম দ্য কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাক্ষাৎকারে কার্লসন রাশিয়ার এক বক্তব্য তুলে ধরেন, যেখানে বলা হয়, মস্কো মনে করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ‘নির্বাচিত নন’, এবং সেই কারণে তিনি ‘কোনো ধরনের চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন না’। এর পর, কার্লসন উইটকফকে প্রশ্ন করেন, ইউক্রেনে নির্বাচন হবে কিনা। উত্তরে উইটকফ জানান, ‘হ্যাঁ, নির্বাচন হবে। তারা এতে সম্মত হয়েছে।’ তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
কয়েক বছর ধরে ক্রেমলিন ইউক্রেনকে দুর্বল করার কৌশল হিসেবে জেলেনস্কিকে অবৈধ প্রমাণের চেষ্টা করছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত, তবে তার বৈধতা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে।
রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেন কোনো নির্বাচন আয়োজন করেনি, কারণ সামরিক আইন জারির পর নির্বাচন নিষিদ্ধ। ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে রাশিয়ার আক্রমণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেন এই সামরিক আইন ঘোষণা করে। দেশটির আইন অনুযায়ী নির্বাচন হতে হলে তা নিরাপদ, অবাধ ও নিরবচ্ছিন্ন হতে হবে যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অসম্ভব, কারণ রাশিয়া এখনো ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
উইটকফ আরও বলেন, তিনি নিশ্চিত যে, রাশিয়া ইউরোপে হামলা চালাবে না। তিনি পুরো মহাদেশজুড়ে রাশিয়ার আগ্রাসন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।
তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তাকে বুঝতে হবে যে, তিনি ক্রমশ পিষ্ট হতে থাকবেন এবং এখনই তার জন্য চুক্তি করার সেরা সময়। উইটকফ জোর দিয়ে বলেন, “যদি সংঘাত সমাধানের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা না থাকে, তবে যেকোনো সাহায্য টেকসই হবে না। আমরা চিরকাল টাকা দিয়ে যেতে পারি না।’
এ মাসের শুরুতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানায়, ট্রাম্পের দলের সদস্যরা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কো এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া তিমোশেঙ্কোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। দুই রাজনীতিবিদ ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করার কথা স্বীকার করেছেন, তবে রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা নির্বাচন আয়োজনের বিরোধিতা করেছেন।
খবরওয়ালা/এসআর