খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার একটি ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ও হেফজখানায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মো. শাহীন উদ্দীন (৩১) নামের এক শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। বিগত সোমবার (১৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাদ্রাসা কার্যালয়ে আয়োজিত পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় অভিভাবকদের এক জরুরি যৌথ বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসা থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে একটি লিখিত মুচলেকাও আদায় করা হয়েছে।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষক মো. শাহীন উদ্দীন ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত পশ্চিম হাসনাদ এলাকার মৃত বদিউল আলমের ছেলে। তিনি স্থানীয় খিল্লাপাড়া হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রা.) ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ও হেফজখানায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদ, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (১৪ জুন) মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহীন উদ্দীন দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করেন। এর আগেও কোমলমতি ছাত্রীরা উক্ত শিক্ষকের এমন আপত্তিকর আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিবারকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে অবহিত করে।
ছাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার সকালে মাদ্রাসা কার্যালয়ে এক জরুরি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। উক্ত বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষক এবং ভুক্তভোগী ছাত্রীদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ছাত্রীদের আনা অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়। পরে বৈঠকে উপস্থিত ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছ থেকে একটি লিখিত মুচলেকা গ্রহণ করা হয় এবং তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শাহীন উদ্দীনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিবরণ, অভিযুক্তের তথ্য ও গৃহীত প্রশাসনিক পদক্ষেপের একটি সারসংক্ষেপ নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | তথ্যের বিবরণ ও খাত | সুনির্দিষ্ট বিবরণ ও কেস ফ্যাক্টস |
| ১ | ঘটনার তারিখ ও স্থান | ১৪ জুন, রবিবার; খিল্লাপাড়া হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রা.) ইবতেদায়ি মাদ্রাসা। |
| ২ | অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম | মো. শাহীন উদ্দীন (৩১), পিতা: মৃত বদিউল আলম। |
| ৩ | স্থায়ী ঠিকানা | পশ্চিম হাসনাদ (৫নং ওয়ার্ড), দাঁতমারা ইউনিয়ন, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম। |
| ৪ | ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী | উক্ত মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী। |
| ৫ | জরুরি বৈঠকের তারিখ | ১৫ জুন, সোমবার (বেলা ১১:৩০ মিনিট)। |
| ৬ | গৃহীত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা | লিখিত মুচলেকা গ্রহণ এবং মাদ্রাসা থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার। |
| ৭ | মাদ্রাসার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা | মাওলানা নাজিম উদ্দিন (পরিচালক)। |
| ৮ | রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্টকরণ | হাসান শামসুদ্দিন (সভাপতি, স্থানীয় ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামী)। |
শ্রেণিকক্ষে কোমলমতি ছাত্রীর সাথে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর প্রবাসী অভিভাবক। তিনি প্রবাস থেকে নিজের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা নাজিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের মাদ্রাসার এক শিক্ষক অত্যন্ত অপ্রীতিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা কোনো আপস করিনি। অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে মাদ্রাসা থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।”
এদিকে, মঙ্গলবার (১৬ জুন) এলাকায় একটি গুঞ্জন ছড়ায় যে, অভিযুক্ত শিক্ষক শাহীন উদ্দীন রাজনৈতিক আশ্রয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করা হয়েছে। দাঁতমারা ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি হাসান শামসুদ্দিন এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে জানান যে, অভিযুক্ত শাহীন উদ্দীন কখনোই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বা দায়িত্বশীল কোনো পদে ছিলেন না এবং দলের সঙ্গে তার কোনো প্রকার সাংগঠনিক সংশ্লিষ্টতা নেই। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই অপরাধের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করা হয়েছে।