খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের কাদেরিয়া পাড়ায় ছোট একটি বাড়ির ছাদে এক যুবকের অদ্ভুত উদ্ভিদ জগত গড়ে উঠেছে। ইটবিছানো সরু সড়কের এক পাশে ধানক্ষেত, অন্য পাশে বসতঘর—সেখান দিয়েই হেঁটে গেলে পৌঁছানো যায় ফরমান হাসনাতের ছাদবাগানে। পুকুরপাড়ে দুটি ছাদের নিচে ছড়িয়ে আছে পদ্ম, ক্যাকটাস এবং নানা বিরল উদ্ভিদের সমারোহ।
ফরমান, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারবিজ্ঞান ও টেলিকমিউনিকেশন প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী, বর্তমানে পেকুয়া চৌমুহনীতে একটি কোচিং সেন্টারে পড়ান। পড়ানোর পাশাপাশি তিনি নিজের বাগানও নিয়মিত যত্ন করেন। এই বাগান থেকেই তিনি বছরে প্রায় চার লাখ টাকা আয় করেন।
“ক্যাকটাসের বংশবৃদ্ধি, শেড তৈরি—সবই নিজের হাতে করেছি। গাছে সার দিলেই দ্রুত বড় হয় না। গুগল ও ইউটিউব থেকে শিখেছি। এখন আমার সংগ্রহে পৃথিবীর অন্তত ৫০টি দেশের উদ্ভিদ আছে,” বলেন ফরমান। তার বাগানে রয়েছে মোট ৪৬০ প্রজাতির উদ্ভিদ, যার মধ্যে প্রায় ১৫০ প্রজাতি ক্যাকটাস। বাগানের নাম তিনি দিয়েছেন ‘পেকুয়া ক্যাকটাস গার্ডেন’।
বাগানের কিছু উদ্ভিদের তালিকা এবং মূল্য:
| উদ্ভিদ প্রজাতি | মূল্য (টাকা) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ক্যাকটাস | ৫০ – ১,২০০ | আকার ও জাতভেদ অনুযায়ী |
| ফার্ন | ৫০০ – ৫,০০০ | আউটডোর ও ইনডোরে ব্যবহারযোগ্য |
| স্টেফেনিয়া | ১৫০ – ১,৫০০ | ছোট আকারের জন্য জনপ্রিয় |
| আর্কিড | ১,০০০ – ৩,০০০ | শৌখিন গ্রাহকরা বেশি সংগ্রহ করেন |
| এয়ার প্ল্যান্ট | ২০০ – ১,০০০ | অফিস ও বাসার ইন্টিরিয়রে ব্যবহার |
ছোটবেলা থেকেই উদ্ভিদের প্রতি আকর্ষণ থাকা ফরমান বলেন, করোনার মহামারির সময় তিনি ক্যাকটাস সংগ্রহ শুরু করেন। শুরুটা প্রতারণার কারণে নেতিবাচক হলেও হাল ছাড়েননি। ধীরে ধীরে নোয়াখালীর বিভিন্ন নর্সারি এবং অনলাইন উৎস থেকে ক্যাকটাস, অর্কিড, ফার্ন, স্টেফেলিয়া, হাউয়ার্থিয়া, এয়ার প্ল্যান্ট, সেনসোভেরিয়া ও অন্যান্য উদ্ভিদ সংগ্রহ করেন।
তার বাগান শুধুমাত্র শখের ক্ষেত্র নয়, এটি এখন একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ৬০৯টি গাছ কুরিয়ার মারফত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়েছে। গড়ে প্রতি মাসে আয় ৩০–৩৫ হাজার টাকা হলেও, যথেষ্ট সময় ও বাজার সম্প্রসারণে মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
ফরমানের উদ্যোগে তার পরিবারও সমর্থন দিয়েছে। বাবা জাকের হোসাইন বলেন, “ছোটবেলা থেকেই ফরমানের উদ্ভিদ নিয়ে আগ্রহ ছিল। এখন লোকেরা দেখতে আসে, দেখে ভালো লাগে।” পেকুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কুতুবদিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অসীম কুমার দাশ এই বাগানকে অনুপ্রেরণামূলক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এমন উদ্যোগ সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। কৃষি বিভাগ থেকে তাঁকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা করা হবে।”
ফরমান নিয়মিত তরুণ ও স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের উদ্ভিদ উপহার দিয়ে উদ্বুদ্ধ করেন। তার ছাদবাগান কেবল একটি শখের জায়গা নয়, বরং বিরল উদ্ভিদ সংগ্রহ ও ব্যবসার এক অনন্য মডেল হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।