খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই এপ্রিল ২০২৬, ১১:১২ এএম
রংপুর নগরীর একটি জ্বালানি সরবরাহ ও সেবা কেন্দ্রে মোটরসাইকেলে জ্বালানি নিতে গিয়ে এক শিক্ষক আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল শনিবার বিকেলে ঢাকা–দিনাজপুর মহাসড়কের পর্যটন মোটেলের বিপরীত পাশে অবস্থিত ওই প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত ব্যক্তি মেহেদী হাসান (৩৩) রংপুর সদর উপজেলার বালাচড়াহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তিনি রংপুর নগরের নিউ ইঞ্জিনিয়ারপাড়ার বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিকেল আনুমানিক সাড়ে চারটার দিকে মেহেদী হাসান মোটরসাইকেল নিয়ে উক্ত জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্রে যান। তিনি সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষমাণ গ্রাহকদের লাইনে ছিলেন না। পরে তিনি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন এবং স্থানটির পাশের একটি ফাঁকা অংশে হাঁটতে থাকেন। এ সময় হঠাৎ তিনি মাটিতে পড়ে যান। আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।
নজরদারি ক্যামেরার ধারণ করা চিত্রে দেখা যায়, বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটে তিনি কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলার পর কিছুটা সামনে এগোন এবং এরপরই পড়ে যান। পরে উপস্থিত লোকজন তাঁকে দ্রুত একটি নিকটবর্তী চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রংপুর চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে তাঁকে ওই হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার সময় জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্রে তদারকির দায়িত্বে একজন কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা এবং একজন পুলিশ পরিদর্শক উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা জানান, হঠাৎ করে তিনি পড়ে যান এবং তাৎক্ষণিকভাবে কথা বলতে অসুবিধা হচ্ছিল। পরে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাঁকে চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক জানান, ঘটনার সময় তিনি ফোনে ব্যস্ত ছিলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি দেখতে পান যে ব্যক্তি হঠাৎ মাটিতে পড়ে গেছেন। পরে কর্মচারীরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করেন।
কর্মচারীদের বরাতে জানা যায়, মৃত্যুর পর রাতের দিকে তাঁর এক স্বজন ঘটনাস্থলে এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান।
মেহেদী হাসান রংপুর জিলা স্কুলের ২০১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও পরিচিতদের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, তিনি বিকেল চারটার দিকে বিদ্যালয় থেকে রংপুর নগরের দিকে রওনা হন। পরে ফোনের মাধ্যমে জানতে পারেন যে তিনি জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্রের সামনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। দ্রুত সহকর্মীদের সেখানে পাঠানো হলেও হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু সংবাদ পাওয়া যায়। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও আন্তরিক ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
| সময় | ঘটনা |
|---|---|
| বিকেল আনুমানিক সাড়ে চারটা | মেহেদী হাসান জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্রে পৌঁছান |
| বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিট | নজরদারি ক্যামেরায় কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলার দৃশ্য ধরা পড়ে |
| এর কিছুক্ষণ পর | হাঁটার সময় হঠাৎ মাটিতে পড়ে যান |
| পরে | স্থানীয়রা উদ্ধার করে নিকটবর্তী চিকিৎসা কেন্দ্রে নেন |
| বিকেল পরবর্তী সময় | উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তর |
| বিকেল সাড়ে পাঁচটা | কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন |
মন্তব্য