খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫
বগুড়ায় উদীচী শিল্পী-গোষ্ঠী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চের পাল্টাপাল্টি অবস্থান এবং সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শহরের সাতমাথা এলাকা।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের অনুষ্ঠানে বাধা, পরবর্তী হামলা ও পাল্টা অবস্থান ঘিরে সৃষ্টি হয় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি।
বুধবার (১৪মে) বিকেলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বগুড়ার সাতমাথা মুক্তমঞ্চে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের আয়োজন করে উদীচী বগুড়া জেলা সংসদ। বিকেল চারটা থেকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা মঞ্চে জড়ো হতে থাকেন। বিকেল পাঁচটার দিকে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ’–এর ব্যানারে প্রায় অর্ধশতাধিক তরুণ সেখানে হাজির হয়ে “ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসরদের বিচার” দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। একপর্যায়ে তাঁরা উদীচীর অনুষ্ঠানস্থলে মাইক টানিয়ে দেন, ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অনুষ্ঠান চালানো সম্ভব হয়নি।
পরিস্থিতি এড়াতে উদীচীর শিল্পীরা বিকল্পস্থল হিসেবে শহীদ খোকন পার্কে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের উদ্যোগ নেন। কিন্তু সেখানে গিয়েও তাঁরা হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করেন তারা। দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং অনুষ্ঠানের পরিবেশ সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত হয়। পরে উদীচীর শিল্পীরা ফিরে যান জেলা সংসদ কার্যালয়ে এবং অপরপক্ষ মুক্তমঞ্চের সামনে অবস্থান নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, একপর্যায়ে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ’-এর ব্যানারে আসা তরুণেরা উদীচীর কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন এবং আয়োজকদের ধাওয়া দেন। তাঁরা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার পাশাপাশি তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হস্তক্ষেপ করে।
উদীচী বগুড়া জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাহিদুর রহমান (বিপ্লব) বলেন, “হামলাকারীদের মধ্যে এনসিপি ও আরও কয়েকটি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ছিলেন। পুলিশ তখন আশপাশে থাকলেও শুরুতে কোনো প্রতিরোধ করেনি।”
এদিকে এনসিপির বগুড়া জেলা সংগঠক আহমেদ সাব্বির বলেন, “উক্ত ঘটনার সঙ্গে এনসিপির কোনো সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই। আমাদের দু–একজন নেতা–কর্মী ব্যক্তি উদ্যোগে সংহতি জানাতে সেখানে গিয়েছিলেন।”
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ দমন) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান জানান, “সাতমাথায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। শহীদ মিনারে অনুষ্ঠান আয়োজনের সময়ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশের বাধায় উদীচীর কার্যালয়ে কেউ প্রবেশ করতে পারেনি।”
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।