খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৫
বগুড়ায় কৃষি বিপণন বিভাগের তৈরি করা অহিমায়িত মডেল ঘরে প্রাকৃতিকভাবে দুই হাজার মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। আলু ছাড়াও এই ঘরগুলোতে সংরক্ষণ করা যাবে মিষ্টি কুমড়া,কচুর মুখিসহ গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন সবজি।
বগুড়ার ৭ টি উপজেলায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি দেড় হাজার কৃষক ৬৭ টি অহিমায়িত মডেল ঘরে এবার আলু সংরক্ষণ করেছেন।কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের এ প্রকল্পের নাম দিয়েছে অহিমায়িত মডেল ঘর। এই ঘরে চার মাস আলু সংরক্ষণ করা যাবে। এখানে আলু সংরক্ষণ করতে বাড়তি কোন খরচ নেই।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,জেলায় এ বছর বছর ৬০ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে ১৩ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছে। যা চাহিদার তুলনায় কয়েকগুণ বেশী। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে অনেক বেশি। এত বেশি পরিমাণ আলু সংরক্ষণ করতে গিয়ে কৃষক পড়ে যান বিপাকে। জেলার ৪২ টি হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করা যায় চার লাখ মেট্রিক টন। আর পুরো জেলায় সারাবছর আলুর চাহিদা থাকে তিন লাখ মেট্রিক টন। প্রতি বছরই কৃষক আলু সংরক্ষণ করতে না পেরে কম মূল্যে বিক্রি করে দেয়। যার কারণে তাদেরকে লোকসানের মুখে পড়তে হয় প্রতি বছর। কৃষকের লোকসান কমিয়ে আনতে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর এবছর ৬৭ টি অহিমায়িত মডেল ঘর তৈরি করে দেন। প্রতিটি ঘরে ৩০ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা যাবে। পরীক্ষামূলকভাবে এ বছর ৭ টি উপজেলায় ৬৭ টি অহিমায়িত মডেল ঘর তৈরি করা হয়েছে। গ্রামের কৃষকদের নিয়ে সমিতি গঠন করে কৃষকের জায়গায় ঘর গুলো কৃষি বিপণন বিভাগের টাকায় তৈরি করে দেয়া হয়েছে।
ছায়া ঘেরা জায়গায় বাঁশ, কাঠ, ঢেউটিন, সিমেন্টের পিলার, ককসিট ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করে ২৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের মডেল ঘরগুলো তৈরি করা হয়েছে। ঘরের মেঝেতে বাঁশের তৈরি মাচায় আলু ঢেলে রাখার কারণে বস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে না।
বগুড়া সদরের গোকুল গ্রামের কৃষক মজিদ বলেন, অহিমায়িত ঘর আলু সংরক্ষণের জন্য আগামীতে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। গত বছর কিছু ঘর তৈরি করা হলেও কৃষকের আগ্রহ তেমন ছিল না। এবার হিমাগার গুলোতে আলু রাখার চাপ বেশী হওয়ায় বগুড়ায় এই ঘরের চাহিদা বেড়েছে।তিনি বলেন আমি অহিমায়িত ঘরে আলুর পাশাপাশি পিঁয়াজ সংরক্ষণ করেছি। ঘর গুলো ছায়া ঘেরা স্থানে নির্মাণ করায় এবং পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবেশ করায় আলু নষ্ট হয় না। তিনি বলেন, আমি গত বছর প্রাকৃতিক উপায়ে অহিমায়িত ঘরে আলু সংরক্ষণ করে সুফল পেয়েছি। চার থেকে পাঁচ মাস আলু রাখা যায়। বাজারে দাম বেড়ে গেলে এর আগেও বিক্রি করা যাবে।
বগুড়া সদরের চকঝপু গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা সমিতির মাধ্যমে এবারই প্রথম আলু সংরক্ষণ করেছি। কোন সমস্যা না হলে এলাকায় কৃষকের মাঝে অহিমায়িত ঘর জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।
বগুড়ার সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মমতা হক বলেন, কৃষকের বসতবাড়িতে রাখার জায়গার অভাবে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে আলু বিক্রি করে দেন। অহিমায়িত ঘরের সুফল পেলে আগামীতে কৃষক নিজ খরচে ঘর তৈরি করে নিতে পারবেন।তিনি আরো বলেন রংপুর অঞ্চলে অহিমায়িত ঘর ব্যাপক জনপ্রিয়। আগামীতে বগুড়াতেও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এই ঘর।
তিনি আরো জানান অহিমায়িত মডেল সংরক্ষণাগারে কৃষকরা বিনা খরচেই আলু সংরক্ষণ করতে পারবেন। আলু বিক্রি করে দেওয়ার পর পেঁয়াজ, মিষ্টিকুমড়া, ভুট্টা, কচুরমুখিসহ বিভিন্ন ফসল সংরক্ষণ করা যাবে।
তবে অহিমায়িত মডেল ঘরে কাটা, ফাটা, অপরিপক্ব, রোগযুক্ত ও ছাল ওঠা আলু রাখা যাবে না। সংরক্ষণাগারে যাতে সূর্যের আলো ও বৃষ্টির পানি প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে।
খবরওয়ালা/টিএ