খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৯ আগস্ট ২০২৫
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) প্রথম বর্ষের (২০ ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে র্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক নারী শিক্ষার্থী প্যানিক অ্যাটাক করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ জুলাই ইনস্টিটিউটের একটি শ্রেণিকক্ষে। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, আন্তঃবিভাগ ফুটবল খেলা নিয়ে আলোচনা করতে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে যান ১৯ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী। আলাপের একপর্যায়ে ম্যানার ও পরিচিতি নিয়ে কথা বলেন তারা। এ সময় অসুস্থ এক ছাত্রীকে ক্লাসে দাঁড় করিয়ে ‘ক্যাম্পাসে চিনলে না কেন’—এমন প্রশ্ন করেন ১৯ ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থী। এরপর আরেকজন সিনিয়রের সঙ্গে কথা বলার সময় ভয় পেয়ে প্যানিক অ্যাটাক করেন ওই ছাত্রী।
ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা জানান, যদিও প্রতিষ্ঠানে একজন ছাত্র উপদেষ্টা আছেন, তবুও শিক্ষার্থীরা সমস্যার কথা সেখানে বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। অভিযোগ আছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ইনস্টিটিউটের পরিচালককে ফোনে পাওয়া যায়নি।
১৯ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, “মেয়েটি আগে থেকেই অসুস্থ ছিল, মাঝেমধ্যেই অজ্ঞান হয়ে যায়। আমরা সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে সুস্থ হলে আমরা সবাই তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি।”
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, “৩০ জুলাই দুপুর আড়াইটার দিকে কয়েকজন সিনিয়র ভাই-বোন ক্লাসে আসেন। সেদিন সকালে এক আপুর সঙ্গে আমার দেখা হয়, যাকে আমি চিনতাম না। পরে ক্লাসে এসে তিনি আমাকে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করলেন কেন এমন করেছি। আমি বললাম, আপু, আমি আপনাকে চিনি না। পরে কয়েকজন ভাই এসে জোরে জোরে বললেন, চিনো না কেন, নাম জানো না কেন? এতে আমি হঠাৎ ভয় পেয়ে যাই এবং প্যানিক অ্যাটাক হয়।”
বিভাগ সূত্র জানায়, ঘটনাটির পর ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর কাজী ফারুক হোসেন ভুক্তভোগী এবং ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নোটিশ দিয়ে ডাকেন। তবে পরিচালক মনিরা জাহান কোনো সমাধান করতে না পারায় বিষয়টি থেকে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট হওয়ার পর তা নতুন করে আলোচনায় আসে।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানাতে বলা হলেও পরিচালক কোনো পদক্ষেপ নেননি এবং প্রশাসনের ফোন কলও রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মনিরা জাহান বলেন, “আমাদের কাছে কোনো ব্যাচ প্রথমে অভিযোগ করেনি। পরে একজন শিক্ষার্থীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। ছাত্র উপদেষ্টারা তাদের চিঠি দিয়ে কথা বলেছেন। রোববার (১০ আগস্ট) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ দেবে। এরপর উভয় ব্যাচের সঙ্গে বসে প্রশাসনকে জানানো হবে।”
খবরওয়ালা/এমএজেড