খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মালালা ইউসুফজাই সম্প্রতি অকপটে জানিয়েছেন নিজের গভীর মানসিক সংগ্রামের কথা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বন্ধুদের সঙ্গে গাঁজা খাওয়ার এক রাতে তিনি হঠাৎ ফিরে যান ১৩ বছর আগের সেই ভয়াবহ মুহূর্তে—যখন তালেবানরা তাকে গুলি করেছিল।
২৮ বছর বয়সী মালালা তাঁর নতুন আত্মজীবনী ‘ফাইন্ডিং মাই ওয়ে’ প্রকাশের আগে দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন,
“আমার মস্তিষ্ক পুরো ঘটনাটা ভুলে গিয়েছিল। কিন্তু সেই রাতে গাঁজা খাওয়ার পর হঠাৎ সব স্মৃতি ফিরে এল।”
২০১২ সালে পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকায় মেয়েদের শিক্ষার পক্ষে কথা বলার কারণে স্কুলবাসে থাকা অবস্থায় মুখোশধারী এক তালেবান বন্দুকধারী তার মাথায় গুলি করে। প্রাণঘাতী অবস্থায় তাকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মালালা জানান, গাঁজা খাওয়ার পরের অভিজ্ঞতা যেন তাকে আবারও সেই মুহূর্তে ফিরিয়ে নেয়।
“সেদিন সবকিছু বদলে গেল। মনে হচ্ছিল আমি আবারও আক্রমণটা দেখছি—যেন আমি মারা গেছি, আর পরজগতে আছি।”
ঘরে ফেরার পথে তিনি জ্ঞান হারান। বন্ধুরা তাকে কোলে করে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্মৃতিগুলো ফিরে আসে—বাস, মানুষ, বন্দুক, রক্ত।
“কোনো জায়গা ছিল না পালানোর, নিজের মনের ভেতর থেকেও না,” বলেন মালালা।
এরপর থেকে তিনি আতঙ্ক, ঘুমহীনতা ও উদ্বেগে ভুগতে থাকেন। দেখা দেয় ঘাম, কাঁপুনি ও দ্রুত হৃদস্পন্দনের মতো শারীরিক উপসর্গ। থেরাপিস্ট পরে জানান, এই মানসিক কষ্টের মূল কারণ ছিল গুলিবিদ্ধ হওয়ার সেই ট্রমা, শৈশবের ভয় এবং শিক্ষাজীবনের চাপ।
থেরাপির সহায়তায় মালালা ধীরে ধীরে নিজের ভয় ও স্মৃতির মুখোমুখি হতে শিখেছেন।
“আমি ভেবেছিলাম, আমি তো বেঁচে গেছি—আর কিছুই আমাকে ভয় দেখাতে পারবে না। কিন্তু ছোট ছোট জিনিসেও ভয় পেতে শুরু করলাম। পরে বুঝলাম, সাহস মানে শুধু বাইরের বিপদের সঙ্গে লড়া নয়, নিজের ভেতরের ভয়কেও জয় করা।”
মালালা জানেন, গাঁজা খাওয়ার এই অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলায় সমালোচনা হতে পারে, কিন্তু তিনি বলেন,
“আমি কোনো জবাব দেব না। আমার বইতেই সব উত্তর আছে।”
‘আই অ্যাম মালালা’-এর পর আসছে তাঁর এই নতুন বই ‘ফাইন্ডিং মাই ওয়ে’, যেখানে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের নানা অধ্যায় তুলে ধরেছেন—নিজের মানসিক যাত্রা, স্বামী ও পাকিস্তানের ক্রিকেট ম্যানেজার আসার মালিকের সঙ্গে জীবন, এবং তাদের নতুন উদ্যোগ ‘রিসেস’, যা নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করছে।
খবরওয়ালা/এমএজেড