খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১২ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিদেশে পড়াশোনা, সরকারি চাকরি, বিমানবালা হওয়ার সুযোগ কিংবা সম্পত্তি দেওয়ার প্রলোভনে প্রতারণার মাধ্যমে বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. কবির হোসেন পাটোয়ারী ১৭ জন নারীকে বিয়ে করেছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের কিছুদিন পরই যৌতুক দাবি ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে একে একে সংসার ভেঙে যায়। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলার নারীরা এভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করে তাদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী নারীরা ও তাদের পরিবার।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বরিশাল নগরীর কাশিপুর বন সংরক্ষক কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বন কর্মকর্তার একাধিক স্ত্রী পরিচয় দেওয়া নারীরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কবির হোসেন পাটোয়ারী চাঁদপুরের মতলব উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ঢাকাসহ খুলনা, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাটে কর্মরত থাকাকালীন বিয়ের নামে প্রতারণা করেছেন। এভাবে ঢাকার নাজনিন আক্তার শীলা, নারায়ণগঞ্জের সোনিয়া, খুলনার নাসরিন আক্তার দোলনসহ মোট ১৭ জন নারী তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
সবশেষ খুলনার চাকরিজীবী খাদিজা আক্তারকে চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন কবির। তবে বিয়ের দ্বিতীয় দিনেই স্ত্রীর বাবার বাড়ির অংশ লিখে দেওয়ার দাবি তোলেন তিনি। এতে রাজি না হওয়ায় খাদিজাকে বরিশালের সরকারি বাসভবন থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী খাদিজা আক্তার অভিযোগ করেন, ‘আমাকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে কবির বিয়ে করেছেন। পরে বাবার বাড়ির সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় তিনি আমাকে নির্যাতন করে বের করে দিয়েছেন।’
অন্য স্ত্রী নাসরিন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাকেও প্রতারণার ফাঁদে ফেলে কবির বিয়ে করেছেন। পরে তার বিয়ের নাটক ধরা পড়ার পর আমাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘কবির হোসেন পাটোয়ারী এ পর্যন্ত যেসব স্টেশনে চাকরি করেছেন, প্রতিটি জায়গাতেই বিয়ে করেছেন। এরপর স্টেশন বদল হলে আর কারও খোঁজ রাখেন না।’
নাসরিন আক্তারের দাবি, ‘আমরা যতদূর খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, কবিরের ১৭ জন স্ত্রী রয়েছে। তাদের খবর না নেওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বরিশালে যোগদানের পর এখানেও নতুন বিয়ের জন্য মেয়ে খুঁজছেন।’
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নারীরা অভিযোগ করেন, থানায়, আদালতে এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দায়ের করেও কোনো প্রতিকার পাননি। একবার দাপ্তরিক প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেও প্রভাবশালীদের সহায়তায় তিনি দ্রুত জামিনে মুক্তি পান। ভুক্তভোগীদের দাবি—কবিরকে বন বিভাগ থেকে অপসারণ করে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
অভিযুক্ত ডিএফও কবির হোসেন পাটোয়ারীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে তার আইনজীবী এনায়েত হোসেন বাচ্চু বলেন, ‘আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন।’
এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বন কর্মকর্তার প্রতারণার মাধ্যমে একাধিক বিয়ের বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/শরিফ