খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
চট্টগ্রামের এক বড় ব্যাংক লুটকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা ও আরও চারজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত। আজ রোববার বিকেলে বিচারক মো. মিজানুর রহমান রায় ঘোষণা করেন। আদালত পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড এবং জরিমানা কার্যকর করেছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে জানান, রায়ে পূবালী ব্যাংক চট্টগ্রামের সিডিএ করপোরেট শাখার সাবেক গাড়িচালক বিজয় কুমার দাশকে জাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়; জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত জরিমানা হবে।
অন্য চারজন আসামি হলেন:
এদের প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা দেওয়া হয়েছে; জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড কার্যকর হবে। রায়ের সময় আসামিরা উপস্থিত ছিলেন এবং এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
২০১৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ঘটনার মূল ব্যক্তিত্ব রাজিবুর রহমান চট্টগ্রাম নগরের শেখ মুজিব রোড শাখা থেকে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তিন নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে গাড়িতে করে সীতাকুণ্ড শাখায় যান। সেখানে তিনি আরও ৮১ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন এবং চট্টগ্রাম নগরের সিডিএ করপোরেট শাখার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
কিছুক্ষণ পর তিনি ফোনে জানিয়ে দেন যে, গাড়িতে থাকা একটি বস্তা সাড়ে ৫০ লাখ টাকা সহ নিখোঁজ। এই ঘটনায় সিডিএ করপোরেট শাখার সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক তৌফিকুর রহমান সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করেন।
| আসামি নাম | পদ/দায়িত্ব | রায় | জরিমানা | অতিরিক্ত জরিমানা/কারাদণ্ড অনাদায়ে |
|---|---|---|---|---|
| বিজয় কুমার দাশ | সাবেক গাড়িচালক | যাবজ্জীবন | ১০ লাখ টাকা | ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত |
| রাজিবুর রহমান | সাবেক জুনিয়র অফিসার-ক্যাশ | ১০ বছর | ১০ লাখ টাকা | ১০ বছর অতিরিক্ত |
| মো. আশিকুর রহমান | নিরাপত্তারক্ষী | ১০ বছর | ১০ লাখ টাকা | ১০ বছর অতিরিক্ত |
| তানজুর রহমান | নিরাপত্তারক্ষী | ১০ বছর | ১০ লাখ টাকা | ১০ বছর অতিরিক্ত |
| মাজহারুল ইসলাম | নিরাপত্তারক্ষী | ১০ বছর | ১০ লাখ টাকা | ১০ বছর অতিরিক্ত |
পুলিশ তদন্ত শেষে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত ২০২২ সালের ১৬ মে অভিযোগ গঠন করেন। সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর আজকের রায় ঘোষণা করা হয়।
এই ঘটনায় চট্টগ্রামের ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা ও নগদ পরিবহনে আরও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা浮ে এসেছে, বিশেষত বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনে।