খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশে তার সমর্থন অব্যাহত রাখার নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) আইএমএফের বাংলাদেশ বিশেষ প্রতিনিধি ম্যাক্সিম ক্রিশকো বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোঃ মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মোঃ হাবিবুর রহমানও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
ক্রিশকো বৈঠকে বলেন, “আইএমএফ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নতুন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। আমরা দেশকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে সমর্থন দিতে প্রস্তুত।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্বাধীন ও স্বচ্ছ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারকে আইএমএফ সমর্থন জানাচ্ছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে আইএমএফের পাঁচ দশমিক পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ প্রোগ্রামের আওতায় রয়েছে। তবে এই প্রোগ্রামের ষষ্ঠ কিস্তি এখনও মুলতবী রয়েছে। আন্তর্জাতিক মাল্টিলেটারাল দাতা প্রতিষ্ঠান কিস্তি মুক্তি দেবে শুধুমাত্র নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ঋণের এই কিস্তি কার্যকর হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ, বিনিয়োগ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
নিচের টেবিলে বাংলাদেশের আইএমএফ ঋণ প্রোগ্রামের কিস্তি ও স্থিতি সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| কিস্তি | ঋণের পরিমাণ (বিলিয়ন মার্কিন ডলার) | স্থিতি |
|---|---|---|
| ১ম | ১.০ | মুক্তি পেয়েছে |
| ২য় | ১.০ | মুক্তি পেয়েছে |
| ৩য় | ০.৫ | মুক্তি পেয়েছে |
| ৪র্থ | ১.০ | মুক্তি পেয়েছে |
| ৫ম | ১.০ | মুক্তি পেয়েছে |
| ৬ষ্ঠ | ১.০ | মুলতবী |
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, আইএমএফের সহযোগিতা বাংলাদেশের নীতি সংস্কার, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশা করছেন, নতুন সরকারের কার্যক্রম শুরু হলে ঋণ কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে, যা দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও দৃঢ় করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইএমএফের এই সমর্থন শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের নীতি স্থিতিশীলতার একটি প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। দেশের নতুন প্রশাসন যদি অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়, তবে এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
মোটকথা, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সহযোগিতা বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। এটি দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ও বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক সঙ্কেত প্রদান করছে।