খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
নেপালের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ট্রান্সজেন্ডার নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ভূমিকা শ্রেষ্ঠা। সোমবার তাকে ফুলের মালা পরিয়ে সাংবিধানিক স্বীকৃতি জানানো হয়, যা হিমালয়াঞ্চলের এই সম্প্রদায়ের জন্য এক যুগান্তকারী মাইলফলক। এই ঘটনার মাধ্যমে নেপালের রাজনীতি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠেছে।
৩৭ বছর বয়সী ভূমিকা শ্রেষ্ঠা নির্বাচিত হয়েছেন রাষ্ট্রিয় স্বাধীনতা পার্টি (আরএসপি) থেকে, অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার মাধ্যমে। এই পার্টি গত নির্বাচনে ১৮২টি আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে গঠিত ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
শ্রেষ্ঠা সাংবাদিকদের বলেন, “আমি অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত, তবে কাঁধে বড় দায়িত্বও অনুভব করছি। আমাদের সংবিধানে আমাদের সম্প্রদায়ের জন্য বিধান রয়েছে, কিন্তু তা এখনও আইন ও নীতিতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। সংসদে আমি আমাদের বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করব।”
গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের পর সরকার পতনের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন আরএসপি ১৬৫টি সরাসরি নির্বাচিত আসনের মধ্যে ১২৫টি জয়ী হয়েছে। অনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে আরও ৫৭টি আসন তাদের হয়েছে। ফলে দলটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে মাত্র দুটি আসন কম পেয়েছে।
ব্লু ডায়মন্ড সোসাইটি (বিডিএস) এর সভাপতি উমিশা পান্ডে শ্রেষ্ঠার নির্বাচিত হওয়া ‘ঐতিহাসিক’ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের যন্ত্রণা, কষ্ট, অনুভূতি, গল্প এবং সমস্যা আমরা সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝি, অন্যরা নয়।”
দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে নেপালের এলজিবিটিকিউ অধিকার আইন তুলনামূলকভাবে অগ্রসর। ২০০৭ সালে লিঙ্গ বা যৌন অভিমুখিতার ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়। ২০১৩ সালে নাগরিকত্ব নথিতে ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ শ্রেণি চালু হয় এবং ২০১৫ সালে পাসপোর্টে ‘অন্যান্য’ শ্রেণি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট সমলিঙ্গ ও ট্রান্সজেন্ডার দম্পতিদের বিয়ে নিবন্ধনের অনুমতি দেয়।
২০০৮ সালের পর এই সম্প্রদায়ের কেউ সংসদে দায়িত্ব পালন করেননি। তৎকালীন একজন প্রকাশ্য সমকামী ব্যক্তি অনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে সংসদে আসেন। বিডিএসের তথ্য অনুযায়ী, নেপালে ৯ লাখের বেশি মানুষ নিজেদের যৌন সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচয় দেন।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সংসদ সদস্য | ভূমিকা শ্রেষ্ঠা |
| বয়স | ৩৭ বছর |
| দল | রাষ্ট্রিয় স্বাধীনতা পার্টি (আরএসপি) |
| নির্বাচনী পদ্ধতি | অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব |
| প্রতিনিধি পরিষদ | ২৭৫ সদস্য |
| নির্বাচনী ফলাফল | ১৮২ আসন জেতা, সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন |
| এলজিবিটিকিউ আইন | ২০০৭: বৈষম্য নিষিদ্ধ, ২০১৩: তৃতীয় লিঙ্গ, ২০১৫: পাসপোর্টে অন্যান্য |
| ২০২৩ আদালত সিদ্ধান্ত | সমলিঙ্গ ও ট্রান্সজেন্ডার বিবাহ অনুমোদন |
| নেপালের যৌন সংখ্যালঘু সংখ্যা | ৯ লাখের বেশি |
ভূমিকা শ্রেষ্ঠার নির্বাচিত হওয়া শুধুমাত্র নেপালের ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের জন্য নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় লিঙ্গ ও যৌন পরিচয়ের বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে এক বড় ধাপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, সামাজিক স্বীকৃতি এবং আইনগত অধিকার প্রসারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।