খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষণা প্রকল্পের চুরি হওয়া ১৩টি ভেড়ার মধ্যে ৪টি উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় জড়িত দুইজনও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার (৫ অক্টোবর) ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর জেলার টঙ্গি পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ ভেড়াগুলো উদ্ধার করে।
গ্রেপ্তাররা হলেন—টঙ্গি পশ্চিম থানা এলাকার মৃত হোসেন সিকদারের ছেলে মো. আবুল কালাম (৪৮) এবং একই এলাকার মৃত কসর উদ্দিন শেখের ছেলে মো. হিরা মিয়া (৩৫)।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিকেল ৩টায় চুরি হওয়া ভেড়া এবং গ্রেপ্তার দুই চোরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঘটনাটি ঘটে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের গেট সংলগ্ন খামার থেকে একাধিক ভেড়া চুরি হয়। এ ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার ভিত্তিতে কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. খালিদ তদন্ত শুরু করেন। তার তথ্য অনুযায়ী, চোরচক্র ভেড়াগুলো চুরি করে টঙ্গি এলাকায় নিয়ে যায় এবং সেখানে ৬টি ভেড়া এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়। বাকি ৭টি ভেড়া বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৬টির মধ্যে ৪টি ভেড়া উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে, তবে বাকি দুইটি মারা গেছে। উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি বাকি ৭টি ভেড়া উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং আরও জড়িতদের ধরতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধারকৃত ভেড়ার খবরে গবেষণার দায়িত্বে থাকা বাকৃবির সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদা ইয়াসমিন বারি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি খুব খুশি। এ গবেষণায় আমি গোল্ড মেডেল পেয়েছি। এই জাতের ভেড়া চর ও হাওর এলাকায় বেশ পরিচিত। উদ্ধার হওয়ায় গবেষণা কাজ এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে।’
উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. ফরিদা ইয়াসমিন বারি ভেড়ার উপর গবেষণার জন্য বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস (বিএএস) থেকে গোল্ড মেডেল অর্জন করেছেন। তার গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু ছিল মাল্টিপল ওভুলেশন এবং এমব্রায়ো ট্রান্সফার, যা ভেড়ার প্রজনন ও উন্নত প্রজাতির বাচ্চা উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০১১ সাল থেকে তিনি ভেড়ার ভ্রূণ উৎপাদন এবং ভ্রূণ স্থানান্তর বিষয়ে নিয়মিত গবেষণা করছেন এবং দেশের ইতিহাসে প্রথমবার ভ্রূণ স্থানান্তরের মাধ্যমে সফলভাবে ভেড়ার বাচ্চা উৎপাদন করেছেন।
তার গবেষণার মাধ্যমে সুপার ওভুলেশনের মাধ্যমে বছরে ২৫-৩০টি উন্নত প্রজাতির কাঙ্ক্ষিত ভ্রূণ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এই সাফল্য শুধুমাত্র প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে নয়, দেশের আমিষ চাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
খবরওয়ালা/শরিফ