খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েল দুটি গোপন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস। রোববার সকালে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বেনামী ইরাকি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিতে এসব স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ৩ মার্চ, যখন এক বেদুইন মেষপালক ওই এলাকায় একটি ঘাঁটির অস্তিত্ব শনাক্ত করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের এক সপ্তাহ আগে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল পৃথক এক প্রতিবেদনে আরও একটি গোপন সামরিক ঘাঁটির তথ্য প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলায় সহায়তার উদ্দেশ্যে ইরাকের প্রত্যন্ত মরুভূমি এলাকায় ইসরায়েল একটি ঘাঁটি স্থাপন করেছিল। ওই ঘাঁটি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘাঁটিতে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর বিশেষ বাহিনী মোতায়েন ছিল। এটি একটি লজিস্টিকস বা রসদ সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই ঘাঁটির মাধ্যমে এমন ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল যাতে শত্রুপক্ষের ভূখণ্ডে কোনো ইসরায়েলি পাইলট গুলিবিদ্ধ হয়ে ভূপাতিত হলে তাদের উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরাকি সেনারা যখন এই ঘাঁটির অবস্থান প্রায় নিশ্চিত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তখন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সেখানে হামলার পরিকল্পনার পর্যায়ে পৌঁছে যায় বলে দাবি করা হয়।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪ মার্চ স্থানীয় এক মেষপালক হেলিকপ্টার চলাচলসহ অস্বাভাবিক কিছু কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন এবং বিষয়টি ইরাকি বাহিনীকে জানান। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
একজন কর্মকর্তা দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানান, আইডিএফ বিমান হামলা চালিয়ে ইরাকি বাহিনীকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়। ওই ঘটনায় একজন ইরাকি সেনা নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে এক মার্কিন সূত্র দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানায়, এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বাহিনী জড়িত ছিল না।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বিতীয় ঘাঁটিটি প্রথমটির থেকে ভিন্ন এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতের আগেই তৈরি করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৫ সালের জুনে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’-এর সময় এই ঘাঁটিটি ব্যবহৃত হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েল ২০২৪ সাল থেকেই এই ঘাঁটি নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু করেছিল। তবে এসব তথ্য বেনামী সূত্র এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে।
এই প্রতিবেদনগুলোতে ঘাঁটিগুলোর অবস্থান ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা একটি প্রত্যন্ত এলাকা। সেখানে সামরিক তৎপরতা এবং অস্বাভাবিক চলাচল স্থানীয়দের নজরে আসে বলে দাবি করা হয়।
দ্য জেরুজালেম পোস্ট সূত্র হিসেবে উল্লেখ করে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারি পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব দাবির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো স্বীকৃতি বা ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইরাকের ভূখণ্ডে গোপন সামরিক উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম একাধিক সূত্রের বরাতে তথ্যগুলো প্রকাশ করলেও ঘটনাগুলোর স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই সম্পর্কে স্পষ্ট বিবরণ পাওয়া যায়নি।