খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ বাজেট থেকে স্বস্তির খোঁজ করছিল। কিন্তু অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের ঘোষিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আরও হতাশ করেছে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে। মূল্যস্ফীতি কমানো, নিত্যপণ্যে কর রেয়াত কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাসের কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই বাজেটে।
বর্তমানে দেশের মূল্যস্ফীতি ৯.০৫ শতাংশ, যেখানে মজুরি বৃদ্ধির হার মাত্র ৮.২১ শতাংশ। ফলে মানুষ বাস্তবিক অর্থেই আয় থেকে বেশি ব্যয়ে বাধ্য হচ্ছে। তবুও বাজেটে আয়কর সীমা বাড়ানো হয়েছে মাত্র ২৫ হাজার টাকা। ন্যূনতম করের ক্ষেত্রেও রাজধানী ও চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের দিতে হবে ৫ হাজার টাকা আয়কর।
অন্যদিকে, রাজস্ব বাড়াতে সাধারণ জনগণের ব্যবহৃত নিত্যপণ্যের ওপর ব্যাপক হারে কর আরোপ করা হয়েছে। ব্লেন্ডার, গ্রাইন্ডার, কেটলি, প্রেসার কুকার, এলপিজি সিলিন্ডার, এলইডি বাতি, এমনকি প্লাস্টিকের ঘরোয়া সামগ্রীর ওপর দ্বিগুণ ভ্যাট আরোপ হয়েছে। ফলে সাধারণ ঘরের বাজেট আরও চাপের মুখে পড়বে।
তীব্র গরমে অনেকেই এসি কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, কিন্তু সেই স্বপ্নে জল ঢেলেছে এসির মূল উপাদান—কম্প্রেসর ও অন্যান্য যন্ত্রাংশে শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত। একইভাবে ফ্রিজ ও মশা মারার ওষুধের দামও বাড়বে। মোবাইল ফোন কিনতে গেলেও বাড়তি কর দিতে হবে।
শুল্ক ও কর বৃদ্ধির কারণে বাড়বে সিমেন্ট, লিফট, রড, বার, এঙ্গেল, নাট-বোল্ট ও টাইলসের দাম। ফলে নতুন ঘর তৈরি কিংবা সংস্কার করাও হবে ব্যয়সাপেক্ষ।
অবশ্য উচ্চ আয়ের করদাতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কর আদায়ের কথা বলা হলেও, সারচার্জ বা সম্পদ কর untouched রেখেছে বাজেট। পাশাপাশি বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে, ফলে বাজারে সহজলভ্য হবে বিদেশি মাছ-মাংস, প্লাস্টিক সামগ্রী, পোশাক-জুতা। অথচ দেশি শিল্পের সুরক্ষায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
বাজেটে মোট ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা আসবে এনবিআর থেকে। অথচ চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার কোটি টাকা।
এই বাজেটে নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্তদের জীবনে স্বস্তির আশ্বাস নেই বললেই চলে। তাদের মাথার ওপর যেন কর ও ব্যয়ের নতুন ছায়া। জনগণ তাই প্রশ্ন তুলছে—এই পাগলা ঘোড়া (মূল্যস্ফীতি) কে থামাবে? বাজেট কি কেবল রাজস্ব আদায়ের হিসাব, না মানুষের বাঁচার দিকনির্দেশনাও?
খবরওয়ালা/ এমএজেড