লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলায় কিশোর অটোরিকশাচালক মো. রাজিব (১৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান আসামি গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে চাঁদপুর সদর এলাকার ওয়্যারলেস এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা একটি পোষা বানরও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়, যা ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
গিয়াস উদ্দিন রায়পুর উপজেলার চর আবাবিল ইউনিয়নের বাসিন্দা। অভিযোগ অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাতে তিনি একটি অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে নির্জন স্থানে যান। সেখানে মাদক সেবনের পর তিনি অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। রাজিব বাধা দিলে তাকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরদিন শনিবার দুপুরে চর আবাবিল এলাকার একটি স্কুলের পশ্চিম পাশের বাগান থেকে রাজিবের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত রাজিবের বাবা মো. মোস্তফা শনিবার রাতে রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় গিয়াস উদ্দিনকে প্রধান আসামি করা হয়। পরে পুলিশের অভিযান চালিয়ে তাকে চাঁদপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গিয়াস উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি স্বীকার করেন, হত্যার পর তিনি রাজিবের অটোরিকশা বিক্রির চেষ্টা করেন। হায়দারগঞ্জ বাজারে নিয়ে গেলেও বিক্রি করতে না পেরে সেটি একটি বাড়িতে রেখে পালিয়ে যান।
রায়পুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারের সময় গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে তার পোষা বানরটিও ছিল। বানরটির নাম ‘রাজ’। ঘটনার পর তিনি ওই বানরটিকে সঙ্গে নিয়েই এলাকা ত্যাগ করেন। পরে তাকে বানরসহ আটক করা হয়। বানরটি বর্তমানে থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং পরে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে থানায় বানর আনার পর সেটি দেখতে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। থানা চত্বরে বানরটি ছোটাছুটি করতে থাকে, ফলে পুলিশ সদস্যদেরও পরিস্থিতি সামলাতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ
| বিষয় |
তথ্য |
| ভুক্তভোগী |
মো. রাজিব (১৪), অটোরিকশাচালক |
| ঘটনা |
হত্যাকাণ্ড |
| স্থান |
চর আবাবিল ইউনিয়ন, রায়পুর |
| সময় |
গত শুক্রবার রাত |
| প্রধান আসামি |
গিয়াস উদ্দিন |
| গ্রেপ্তার স্থান |
চাঁদপুর সদর এলাকা |
| উদ্ধার |
পোষা বানর ‘রাজ’ |
| মামলার বাদী |
মো. মোস্তফা (নিহতের বাবা) |
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি আসামির সঙ্গে বানরসহ গ্রেপ্তারের ঘটনা এলাকায় বিরল এবং নজিরবিহীন। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।