খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট ২০২৫
পটুয়াখালীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌশলী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিনের সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে জেলা আইনজীবী সমিতি।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে সমিতির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় ১৮৪ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আদালতের বিচারক নীলুফার শিরিনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়।
জানা গেছে, গত ২০ আগস্ট বিচারক নীলুফার শিরিন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সচিব, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি-সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার আদালতে বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং–২৬১/২৫ (ধারা ৯(৩), নারী ও শিশু)–এর আসামির পক্ষে অভিযোগ দায়েরের দুই দিন আগে থেকেই পিপি রুহুল আমিন তাকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান। কিন্তু তিনি কোনো জবাব দেননি।
২০ আগস্ট সকালে রুহুল আমিনের পাঠানো একজন ব্যক্তি বিচারকের বাসায় এসে গৃহকর্মীর কাছে একটি লাল ব্যাগ দিয়ে যান। ব্যাগের ভেতরে দুটি খাম পাওয়া যায়। এক খামে মামলার নথিপত্র এবং অন্য খামে ৫০০ টাকার নোটের একটি বান্ডিল (প্রায় ৫০ হাজার টাকা)। এ ঘটনায় বিচারক প্রচণ্ডভাবে অপমানিত ও ক্ষুব্ধ হন।
পরে তিনি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি-সম্পাদক ও জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরকে বিষয়টি জানান এবং খামগুলো দেখান। তারা বিচারককে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখতে বলেন।
অভিযোগে বিচারক আরও উল্লেখ করেন, আলোচিত লামিয়া গণধর্ষণ মামলাসহ বিভিন্ন মামলায়ও পিপি রুহুল আমিন আসামিদের পক্ষে তদবির করেছেন। এ অবস্থায় তার সঙ্গে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
জেলা আইনজীবী সমিতির জরুরি সভায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয়, অ্যাডভোকেট রুহুল আমিনের সদস্যপদ স্থগিত থাকবে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বলেন, ‘এটা আমার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। মামলাটি ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল। আমি শুধু বিচারককে বিষয়টি অবহিত করেছি।’
খবরওয়ালা/শরিফ