খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
সম্প্রতি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় গ্রেফতার ও পরবর্তীতে জামিন লাভের পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে সরব হয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ সংগীতশিল্পী, সুরকার ও গীতিকার জাহিদ অন্তু। ইডেন কলেজের এক ছাত্রীর দায়ের করা যৌন নিপীড়ন ও শ্লীলতাহানির মামলায় অভিযুক্ত এই শিল্পী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তার এই মন্তব্য এবং মামলার প্রেক্ষাপট নিয়ে বর্তমানে বিনোদন অঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী, গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে একটি গিটার ক্লাস চলাকালীন জাহিদ অন্তুর সঙ্গে ইডেন কলেজের ওই শিক্ষার্থীর পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলেও পরবর্তীতে তা ভেঙে যায় এবং দীর্ঘ সময় তাদের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।
গত ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় একটি পণ্যের ফটোশুটের কথা বলে জাহিদ অন্তু ওই শিক্ষার্থীকে তার গুলশানের বাসভবনে আমন্ত্রণ জানান। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানে যাওয়ার পর জাহিদ তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করেন। বাধা দিতে গেলে তাকে শারীরিক নিগ্রহ করা হয়, যার ফলে তার মুখ, গলা ও মাথায় জখম হয়। পরবর্তী সময়ে ওই শিক্ষার্থী কৌশলে বাসা থেকে বের হয়ে স্বজনদের সহায়তায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং ৩০ মার্চ গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতারের একদিনের মাথায় গত ২ এপ্রিল আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান জাহিদ অন্তু। জামিন লাভের পর মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তিনি নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি শেয়ার করে তিনি ক্যাপশনে লেখেন:
“বিচক্ষণ ব্যক্তি একপক্ষের কথা শুনে মন্তব্য করে না। আইন বিচার করবে। দোষ করলে আমার ফাঁসি হোক। এভাবে হাসতে হাসতে মেনে নেব। বিচারের মালিক আল্লাহ।”
তার এই বক্তব্যে একদিকে যেমন নিজের নির্দোষ হওয়ার দাবি ফুটে উঠেছে, অন্যদিকে প্রচলিত আইনি ব্যবস্থার প্রতি আস্থাও পরিলক্ষিত হয়েছে। নিচে ঘটনার সময়ক্রম ও মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
ঘটনা ও মামলার সারসংক্ষেপ
| বিষয় | বিবরণ |
| অভিযুক্ত | জাহিদ অন্তু (কণ্ঠশিল্পী ও সুরকার) |
| অভিযোগের ধরন | যৌন নিপীড়ন, শ্লীলতাহানি ও শারীরিক আঘাত |
| ঘটনার স্থান | গুলশান, ঢাকা |
| মামলার তারিখ | ৩০ মার্চ, ২০২৬ |
| সংশ্লিষ্ট আইন | নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন |
| বর্তমান অবস্থা | অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে মুক্ত (মেয়াদ ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত) |
| আদালত | ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত |
জাহিদ অন্তু মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের গান ও ভিডিওর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিতি লাভ করেন। তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল ভারতের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর বাছাই পর্বে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অংশগ্রহণ করা। কলকাতার পিবি একাডেমিক স্কুল ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত সেই অডিশনে অংশ নিয়ে তিনি দুই বাংলাতেই বেশ আলোচিত হয়েছিলেন।
সংগীতের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মডেল হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন। তবে এই আইনি জটিলতা তার উদীয়মান ক্যারিয়ারে এক বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৯ এপ্রিল। আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত এই বিতর্কের অবসান ঘটছে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভক্ত ও সাধারণ জনগণের নজর এখন আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার দিকে। জাহিদ অন্তু কি নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করতে পারবেন, নাকি অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে দণ্ড ভোগ করবেন—তা সময়ই বলে দেবে।