খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে পৌষ ১৪৩২ | ১ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নেত্রকোনার শিক্ষা ব্যবস্থায় বিজ্ঞান বিভাগ এক ধরনের “কাগজে-কলমে” অবস্থায় চলে। মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী থাকলেও উচ্চমাধ্যমিকে উঠতেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা ভীষণভাবে কমে যায়। অনেক কলেজে শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা, ল্যাব তালাবদ্ধ, যন্ত্রপাতি মরিচা ধরে থাকা অবস্থায়ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন নিয়মিতভাবে গৃহীত হচ্ছে। শিক্ষার্থীহীন এই বিভাগে প্রতি বছর সরকারি কোটি টাকার অর্থ অপচয় হচ্ছে।
জেলার ৪৫টি কলেজের মধ্যে সরকারি ১১টি, এমপিওভুক্ত ১৯টি, নন-এমপিও ১৫টি। এর মধ্যে ৭টি এমপিওভুক্ত কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ নেই।
জেলা শিক্ষা অফিস ও কলেজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় সরকারি ও এমপিওভুক্ত কলেজ থেকে অংশ নেবে ৬,৮০১ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী, কিন্তু বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাত্র ৯০৮ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর এক-ষষ্ঠাংশেরও কম।
| কলেজ/প্রতিষ্ঠান | বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী | শিক্ষক সংখ্যা |
|---|---|---|
| মোহনগঞ্জ শহীদ স্মৃতি কলেজ | 0 | 4 |
| মোহনগঞ্জ মহিলা কলেজ | 2 | 5 |
| মদন সরকারি আজিজ খান কলেজ | 7 | 5 |
| চন্দ্রনাথ কলেজ | 5 | 5 |
| হেনা ইসলাম কলেজ | 5 | 4 |
| আটপাড়া ডিগ্রি কলেজ | 2 | 5 |
এ ছাড়া অন্তত আরও ১০টি কলেজে শিক্ষার্থী সংখ্যা একক অঙ্কে, কিন্তু শিক্ষক সংখ্যা পূর্ণ। এর বিপরীতে জেলার বিজ্ঞান বিভাগের অর্ধেক শিক্ষার্থী আসে দুটি কলেজ থেকে — নেত্রকোণা সরকারি কলেজ ও নেত্রকোণা সরকারি মহিলা কলেজ, যেখানে রয়েছে মোট ৫৩০ জন শিক্ষার্থী।
ল্যাবের অবস্থা শোচনীয়। অনেক প্রতিষ্ঠানে ল্যাব তালাবদ্ধ, যন্ত্রপাতি নষ্ট, কোথাও ব্যবহারযোগ্য শিক্ষক নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২১ সালের নীতিমালায় বলা হয়েছে, কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ চালানোর জন্য ন্যূনতম ২০ জন শিক্ষার্থী থাকা আবশ্যক। কিন্তু বাস্তবায়ন এখনও হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, আধুনিক ল্যাব, দরিদ্র শিক্ষার্থীর জন্য বৃত্তি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষক পুনর্বিন্যাস ছাড়া বিজ্ঞান শিক্ষার এই পতন থামানো সম্ভব নয়।
জেলার অধ্যক্ষরা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় রাজনৈতিক তদবিরে অধিকাংশ কলেজ এমপিওভুক্ত হয়। শিক্ষার্থী না থাকলেও শিক্ষক কমালে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়। নেত্রকোনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবু তাহের খান বলেন, “ছাত্রশূন্য কলেজগুলোতে বিজ্ঞান বিভাগ বন্ধ করে একীভূত করা জরুরি, এতে সরকারি অর্থ অপচয় রোধ করা সম্ভব।”
নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শায়লা পারভীন শ্রাবণী বলেন, “মফস্বলে বিজ্ঞান শিক্ষার এই অবনতি চলতে থাকলে পরবর্তী দশকে দেশজুড়ে বিজ্ঞানভিত্তিক উচ্চশিক্ষার ঘাটতি দেখা দেবে, যা প্রযুক্তি, চিকিৎসা, প্রকৌশল ও গবেষণার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
মাউশির ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালক এ.কে.এম. আলিফ উল্লাহ আহসান জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত কলেজের শিক্ষকদের অন্য কলেজে বদলি করা সম্ভব নয়। আগামীতে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়াতে এবং সরকারি অর্থ অপচয় রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।