খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
দীর্ঘ তিন বছর সাত মাস পর গত ৩০ জুন প্রকাশিত ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে ১,৬৯০ জন প্রার্থীকে ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। কিন্তু রিপিট ও লোয়ার ক্যাডার ইস্যুতে জট তৈরি হওয়ায় প্রায় চারশ প্রার্থী নতুন পদে যোগ দিতে আগ্রহী নন। ফলে শূন্য পদ থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রকাশিত ফলাফলের পর পদ শূন্য রাখা এবং পুনরায় সুপারিশ না দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পিএসসি। বিতর্ক এড়াতে কমিশন বিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়, যাতে রিপিট ক্যাডারের জায়গায় মেধাক্রম অনুযায়ী নন-ক্যাডার প্রার্থীদের সুপারিশ করা যায়।
পিএসসি বিধি সংশোধনের পরও আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত ফল পুনরায় প্রকাশ করতে পারছে না। ফলে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তারা বলছেন, ফল প্রকাশের দুই মাস ১৮ দিন পার হলেও গেজেট প্রকাশসহ পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হয়নি।
পিএসসির প্রস্তাব অনুযায়ী ৯ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বিধি সংশোধন জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে অনুমোদিত হয় এবং সচিব কমিটির মাধ্যমে ৯ আগস্ট কমিশনে আসে। তবে পিএসসি কমিশন সভা না হওয়ায় ফল পুনঃপ্রকাশ ও পরবর্তী ভেরিফিকেশন কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
৪৪তম বিসিএসে পদ না বাড়ানোয় ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন। তারা স্মারকলিপি, মানববন্ধন, বিক্ষোভ-সমাবেশ এবং রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন পর্যন্ত করেছেন। তাদের অভিযোগ, আগের বিসিএসগুলিতে পদ বাড়ানো হতো—৪৩তম বিসিএসে বিজ্ঞাপিত ১,৮১৪টি পদ বাড়িয়ে ২,১৬৩ পদ, ৪১তম বিসিএসে ২,৫২০ পদ, ৪০তম ১,৯৬৩ পদ, ৩৮তম ২,২০৪ পদ। কিন্তু ৪৪তম বিসিএসে অন্তত ২০টি শূন্য রাখা হয়েছে।
আন্দোলনরত প্রার্থীরা বলছেন, “ষড়যন্ত্র করে মেধাবীদের বঞ্চনা করা হয়েছে। পদ না বাড়ালে আমরা পুনরায় ঘোষিত ফলাফল মানতে রাজি নই।”
পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম বলেন, “প্রার্থীদের দাবি পূরণের জন্য আমরা আন্তরিক। কমিশন সভায় এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
খবরওয়ালা/এমএজেড