খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
আফগানিস্তানের কাবুল থেকে ভারতের দিল্লি—দূরত্ব মাত্র নয়শ’ কিলোমিটার, কিন্তু যাত্রা ছিল একেবারে প্রাণসঙ্কটময়। ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর সে যাত্রা করেছে উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং গিয়ার বক্সে লুকিয়ে, আর বিস্ময়করভাবে সে সুস্থ অবস্থায় পৌঁছেছে।
কিশোরটির লক্ষ্য আসলে ইরান যাওয়া। তবে ভোরের নিরিবিলি মুহূর্তে সে কাবুল বিমানবন্দরের ভেতরে ঢুকে যাত্রীদের সঙ্গে রানওয়েতে চলে যায়। চোখ এড়িয়ে, কেএএম এয়ারের উড়োজাহাজের চাকা রাখার বক্সে লুকিয়ে পড়ে। সঙ্গে ছিল শুধু একটি লাল রঙের অডিও স্পিকার।
উড়োজাহাজটি প্রায় ৯০ মিনিটের উড়াল শেষে পৌঁছায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। কিশোরটি চাকা রাখার বক্স থেকে বের হলে, বিমানবন্দরের কর্মীরা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন—একটু আগে যে প্রাণঘাতী ঝুঁকির মুখে সে ছিল, এখন সে পুরো অক্ষত।
বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ সাধারণত ৩০,০০০–৪০,০০০ ফুট উচ্চতায় উড়ে। সেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায়, চাপ প্রচণ্ড হয়, আর চাকা ওঠা-নামার সময় মারাত্মক আঘাতের ঝুঁকি থাকে। সাধারণত এই ধরনের পরিস্থিতিতে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু অনিবার্য।
ইউএস ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৭ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ১৩২ জন এ ধরনের লুকিয়ে যাত্রায় প্রাণ হারিয়েছেন। মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে প্রায় ৭৭ শতাংশের বেশি।
তবুও এই কিশোর তার ছোট্ট দেহে বিপদকে ঠেলে দিয়ে বেঁচে ফিরেছে। তার সাহসিকতা আর কৌতূহল অনন্য।
উড়োজাহাজ অবতরণের পর কিশোরটি রানওয়েতে ঘুরতে দেখা যায়। পরে তাকে সিআইএসএফের কাছে নিয়ে যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে আফগানিস্তানের কুন্দুজ শহরের বাসিন্দা। বিকেল ৪টার দিকে তাকে ফেরত পাঠানো হয় কাবুলগামী একই উড়োজাহাজে।
উড়োজাহাজের প্রকৌশলীরা চাকা রাখার বক্সে যান্ত্রিক ত্রুটি আছে কি না পরীক্ষা করেন। ছোট লাল রঙের অডিও স্পিকার উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনা শুধু দুঃসাহসের নয়, মানবজীবনের সংক্ষিপ্ততা ও মূল্যকেও তুলে ধরে। কতটা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কিশোরের কৌতূহল, আশা আর প্রাণের আকাঙ্ক্ষা তাকে বেঁচে ফিরতে সাহায্য করেছে। এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানব চেতনা কখনোই সীমাবদ্ধ নয়।
খবরওয়ালা/এমএজেড