খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের অভ্যন্তরে এক নজিরবিহীন দুর্নীতির কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে এসেছে। ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন সার্ভিসের ছয়জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিবাসীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ, মানি লন্ডারিং এবং সরকারি পদের অপব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা প্রদানের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ‘ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস’ (CPS) দীর্ঘ তদন্তের পর এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘটনাটি ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন সিস্টেমের স্বচ্ছতা ও সততাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
সিপিএস-এর স্পেশাল ক্রাইম ডিভিশনের প্রধান ম্যালকম ম্যাকাফি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত ও অকাট্য প্রমাণাদি তাঁদের হাতে রয়েছে। জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করেই এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২১ সালের আগস্ট থেকে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে এই সুসংগঠিত চুরির ঘটনা এবং অর্থ পাচারের প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হয়েছে। হোম অফিসের অভ্যন্তরীণ একটি বিশেষ দল দীর্ঘ সময় ধরে এই কর্মকর্তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। নিচে অভিযুক্তদের পরিচয় ও তাঁদের বিরুদ্ধে আনা মূল অভিযোগসমূহের একটি সারণি দেওয়া হলো:
| কর্মকর্তাদের নাম ও বয়স | বসবাসের এলাকা | প্রধান অভিযোগসমূহ |
|---|---|---|
| ব্যাসপির বাতেরা (৩৬) | সারে (Surrey) | চুরির ষড়যন্ত্র, সরকারি পদে অসদাচরণ, প্রতারণা ও জালিয়াতি। |
| জ্যাক মিটল (৩৩) | ডোভার, কেন্ট (Kent) | চুরি, ছদ্মবেশ ধারণ এবং সম্পত্তি গোপন করার অপচেষ্টা। |
| অন্যান্য ৪ কর্মকর্তা | লন্ডন ও সংলগ্ন এলাকা | মানি লন্ডারিং, অর্থ আত্মসাৎ ও অনৈতিকভাবে ভিসা সহায়তা। |
| তদন্তকাল | ২০২১ – ২০২২ | হোম অফিসের বিশেষ গোয়েন্দা দল কর্তৃক তদন্ত। |
তদন্তে জানা গেছে, সারের বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সী ব্যাসপির বাতেরা এই চক্রের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে শুধুমাত্র সরকারি পদের অপব্যবহারই নয়, বরং ছদ্মবেশ ধারণ করে অভিবাসীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিকে যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি লাভে সরাসরি সহায়তা করতেন এবং পরিচয়পত্র বা আইডেন্টিটি ডকুমেন্ট জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তি অর্জন করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কেন্ট এলাকার বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী জ্যাক মিটলের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে, তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা বা বর্ডার ফোর্সের স্পর্শকাতর তথ্য পাচার এবং অভিবাসীদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা অর্থ বা সম্পত্তি কৌশলে সরিয়ে ফেলতেন। বাকি চারজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও একই ধরনের দুর্নীতির মাধ্যমে ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই দুর্নীতির খবরটি ব্রিটিশ মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হওয়ার পর দেশটির জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, হোম অফিসের ভেতরে এ ধরনের সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকার কারণে প্রকৃত অভিবাসীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়ছে। অভিযুক্ত এই ছয়জন ইমিগ্রেশন অফিসারকে আগামী ২৯ জানুয়ারি লন্ডনের ‘ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে’ হাজির করা হবে। সেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বিচার বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হলে এই কর্মকর্তাদের দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ডসহ বড় অংকের জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে।