খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে কার্তিক ১৪৩২ | ৮ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বেতন গ্রেড উন্নয়সহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের মিছিল শাহবাগে ছত্রভঙ্গ করেছে পুলিশ। লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপে বহু শিক্ষক আহত হয়েছেন। জলকামান থেকেও গরম পানি ছোড়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার সকাল থেকে শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। বিকেলে তাঁরা মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে গেলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে বাধা দেয়। শিক্ষকেরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ওপর চড়াও হয়।
শিক্ষকদের অভিযোগ, বিনা উসকানিতে পুলিশ তাঁদের ওপর হামলা চালায়। তবে পুলিশের দাবি, শিক্ষকরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’র দিকে এগোতে চাওয়ায় তাঁদের থামানো হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের তিন দফা দাবি হলো—সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন প্রদান, শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি, এবং চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড দেওয়া।
বেলা সাড়ে তিনটার দিকে শিক্ষকরা শহীদ মিনার থেকে শাহবাগ অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। বিকেল চারটার দিকে কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের সামনে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের আটকে দেয়। সেখানে সংঘর্ষের ঘটনাই শুরু হয়। শিক্ষকরা জানান, তাঁদের কর্মসূচি ছিল “প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষরের দাবিতে কলম সমর্পণ”। কিন্তু পুলিশ বাধা দিলে তাঁরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন, এরপরই পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ চালায়।
প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, “আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিনা উসকানিতে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। অন্তত ৫০ জন শিক্ষক আহত হয়েছেন, দুজনকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে।”
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর বলেন, “শিক্ষকেরা যমুনার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের শাহবাগে আটকে দেওয়া হয়। তাঁরা ব্যারিকেড ভাঙতে গেলে পুলিশ মিছিল ছত্রভঙ্গ করে।” তিনি আরও জানান, “দুই-একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে; তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শিক্ষকনেতা শামছুদ্দীন জানান, তাঁরা আপাতত শহীদ মিনারে অবস্থান চালিয়ে যাবেন এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
এর আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিক্ষোভেও পুলিশের লাঠিপেটার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা হয়।