ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু মাঠের খেলা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সারা বিশ্বের সংগীত ও সংস্কৃতির আবেগঘন সংযোগ। প্রতি আসরেই বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় আনুষ্ঠানিক গান, যা দর্শক-সমর্থকদের মধ্যে উদ্দীপনা ছড়িয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম ইএসপিএন সম্প্রতি ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ গানগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে শাকিরার ‘ওয়াকা ওয়াকা’ থেকে শুরু করে রিকি মার্টিনের ‘কাপ অব লাইফ’ পর্যন্ত নানা জনপ্রিয় গান স্থান পেয়েছে।
নীচে তালিকার শীর্ষ দশ গান উপস্থাপন করা হলো—
ক্রম
গান
শিল্পী
বছর
সংক্ষিপ্ত মন্তব্য
১০
লিভ ইট আপ
নিকি জ্যাম, উইল স্মিথ, এরা ইস্ত্রেফি
২০১৮
রাশিয়া বিশ্বকাপের গান, তেমন সাড়া ফেলেনি
৯
হাইইয়া হাইইয়া
ত্রিনিদাদ কার্ডোনা, ডাভিদো, আইশা
২০২২
কাতার বিশ্বকাপের গান, মিশ্র প্রতিক্রিয়া
৮
আন ইস্তাতে ইতালিয়ানো
এদোয়ার্দো বেনেত্তো, জিয়ান্না নান্নিনি
১৯৯০
উদ্দীপনাময় ক্লাসিক বিশ্বকাপ সংগীত
৭
দ্য টাইম অব আওয়ার লাইভস
ডিভো, টনি ব্র্যাক্সটন
২০০৬
আবেগঘন ধীরগতির ব্যালাড
৬
বুম
আনাস্তাসিয়া
২০০২
ভিডিও জনপ্রিয় হলেও গান সীমিত সাড়া পায়
৫
ডাই ডাই
শাকিরা, বার্না বয়
২০২৬
সাম্প্রতিক গান, মাঝারি প্রতিক্রিয়া
৪
উই আর ওয়ান
পিটবুল, জেনিফার লোপেজ
২০১৪
বহুভাষিক ও উৎসবমুখর পরিবেশনা
৩
গ্লোরি ল্যান্ড
ড্যারিয়েল হল, সাউন্ডস অব ব্ল্যাকনেস
১৯৯৪
ঐতিহ্য ও আবেগে ভরপুর শক্তিশালী গান
২
কাপ অব লাইফ
রিকি মার্টিন
১৯৯৮
বিশ্বজুড়ে অমর জনপ্রিয়তা অর্জন
১
ওয়াকা ওয়াকা
শাকিরা
২০১০
সর্বকালের অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ গান
বিশ্বকাপের সংগীতের ইতিহাসে প্রতিটি গানই নিজস্ব সময়ের আবহ ও আবেগ বহন করে। বিশেষ করে ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গানটি ২০১০ সালের বিশ্বকাপকে বিশ্বব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত করেছিল। আফ্রিকান ছন্দ, উচ্ছ্বাস ও ঐক্যের বার্তা এই গানকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে যায়।
অন্যদিকে ‘কাপ অব লাইফ’ বিশ্বকাপ সংগীতের একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়, যা আজও দর্শকদের মুখে মুখে ফিরে আসে। এর শক্তিশালী কোরাস ও উৎসবমুখর সুর ফুটবল উন্মাদনাকে নতুন মাত্রা দেয়।
তালিকার নিচের দিকে থাকা কিছু গান যেমন ‘লিভ ইট আপ’ বা ‘হাইইয়া হাইইয়া’ তুলনামূলকভাবে কম প্রভাব ফেললেও আধুনিক বিশ্বকাপ সংস্কৃতির অংশ হয়ে আছে। এসব গান বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মিশ্রণ ঘটিয়ে বিশ্বব্যাপী দর্শকদের একত্রিত করার চেষ্টা করেছে।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের গানগুলো শুধু সংগীত নয়, বরং ফুটবলের আবেগ, ঐক্য ও বিশ্বসংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।