খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে অন্যতম সফল দল আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার পূর্বে দলটির বিগত ১৮টি আসরের উদ্বোধনী ম্যাচের পথচলা ও সামগ্রিক পারফরম্যান্সের বিশদ চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো।
১৯৩০ বিশ্বকাপ (স্বাগতিক উরুগুয়ে): ১৯৩০ সালের ১৫ জুলাই আর্জেন্টিনা তাদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে। ফ্রান্সের বিপক্ষে এই ম্যাচে লুইস মন্তির ৮১ মিনিটের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় আলবিসেলেস্তেরা। এই আসরের ফাইনালে স্বাগতিক উরুগুয়ের কাছে ৪-২ ব্যবধানে হেরে রানার্স-আপ হয় আর্জেন্টিনা।
১৯৩৪ বিশ্বকাপ (স্বাগতিক ইতালি): নকআউট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এই আসরের প্রথম ম্যাচেই সুইডেনের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা।
১৯৫৮ বিশ্বকাপ (স্বাগতিক সুইডেন): টানা তিনটি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার পর এই আসরে ফেরে দলটি। প্রথম ম্যাচে ওরেস্তে করবাত্তার গোলে এগিয়ে গেলেও পশ্চিম জার্মানির কাছে ৩-১ ব্যবধানে হেরে যায় তারা। পরে চেকোস্লোভাকিয়ার কাছে ৬-১ গোলে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়।
১৯৬২ বিশ্বকাপ (স্বাগতিক চিলি): হেক্টর ফ্যাকুন্দোর একমাত্র গোলে বুলগেরিয়াকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে আসর শুরু করলেও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ইংল্যান্ডের কাছে হার এবং হাঙ্গেরির সাথে ড্র করায় গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়।
১৯৬৬ বিশ্বকাপ (স্বাগতিক ইংল্যান্ড): লুইস আরতিমের জোড়া গোলে স্পেনের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নেয়।
১৯৭৪ বিশ্বকাপ (স্বাগতিক জার্মানি): ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে বাছাইপর্ব পার করতে না পারা আর্জেন্টিনা ১৯৭৪ আসরের প্রথম ম্যাচে পোল্যান্ডের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় রাউন্ডে নেদারল্যান্ডস, ব্রাজিল ও পূর্ব জার্মানির কাছে হেরে বিদায় নেয়।
১৯৭৮ বিশ্বকাপ (স্বাগতিক আর্জেন্টিনা): নিজেদের মাটিতে আয়োজিত আসরে ড্যানিয়েল বার্টোনির শেষ মুহূর্তের গোলে হাঙ্গেরিকে ২-১ ব্যবধানে হারায়। ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি জেতে আর্জেন্টিনা।
১৯৮২ বিশ্বকাপ (স্বাগতিক স্পেন): ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় রাউন্ডে ইতালি ও ব্রাজিলের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়।
১৯৮৬ বিশ্বকাপ (স্বাগতিক মেক্সিকো): হোর্হে ভালদানোর দুটি ও অস্কার রুগারির একটি গোলে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয় পায়। এই আসরের ফাইনালে জার্মানিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা।
১৯৯০ বিশ্বকাপ (স্বাগতিক ইতালি): শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নেমে প্রথম ম্যাচে ক্যামেরুনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে বড় অঘটনের শিকার হয়। তবে আর্জেন্টিনা সেবারও ফাইনাল খেলে এবং জার্মানির কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে রানার্স-আপ হয়।
১৯৯৪ বিশ্বকাপ (স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র): গ্রিসকে ৪-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা হ্যাটট্রিক করেন এবং ডিয়েগো ম্যারাডোনা গোল করেন। তবে এই আসরের মাঝপথে ম্যারাডোনা ডোপ টেস্টে পজিটিভ হলে দল ধাক্কা খায় এবং দ্বিতীয় রাউন্ডে রোমানিয়ার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেয়।
১৯৯৮ বিশ্বকাপ (স্বাগতিক ফ্রান্স): জাপানের বিপক্ষে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায়। পরবর্তীতে কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয়।
২০০২ বিশ্বকাপ (স্বাগতিক কোরিয়া-জাপান): বাতিস্তুতার একমাত্র গোলে নাইজেরিয়াকে ১-০ ব্যবধানে হারালেও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ইংল্যান্ডের কাছে হার ও সুইডেনের সঙ্গে ড্র করে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়।
২০০৬ বিশ্বকাপ (স্বাগতিক জার্মানি): হার্নান ক্রেসপো ও হাভিয়ের স্যাভিয়োলার গোলে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারায়। পরে কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক জার্মানির কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিদায় নেয়।
২০১০ বিশ্বকাপ (স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা): গ্যাব্রিয়েল হাইনসের হেডে নাইজেরিয়াকে ১-০ ব্যবধানে হারায়। কোচের দায়িত্বে থাকা ম্যারাডোনার এই দল কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে ৪-০ গোলে হেরে বিদায় নেয়।
২০১৪ বিশ্বকাপ (স্বাগতিক ব্রাজিল): একটি আত্মঘাতী গোল ও লিওনেল মেসির গোলে বসনিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারায়। ফাইনালে উঠে অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির কাছে ১-০ গোলে শিরোপা হারায় আর্জেন্টিনা।
২০১৮ বিশ্বকাপ (স্বাগতিক রাশিয়া): সার্জিও আগুয়েরোর গোলের পর আইসল্যান্ডের সাথে ১-১ গোলে ড্র হয় ম্যাচটি। এই ম্যাচে লিওনেল মেসি পেনাল্টি মিস করেন। পরে শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় তারা।
২০২২ বিশ্বকাপ (স্বাগতিক কাতার): লিওনেল মেসির পেনাল্টি গোলের পর সৌদি আরবের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা, যা তাদের টানা ৩৬ ম্যাচের অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙে দেয়। তবে এই ধাক্কা কাটিয়ে ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে নিজেদের তৃতীয় বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের খেলা ১৮টি উদ্বোধনী ম্যাচের পারফরম্যান্সের গাণিতিক ও পরিসংখ্যানগত সংক্ষিপ্ত রূপ নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | পরিসংখ্যানগত তথ্য |
| মোট উদ্বোধনী ম্যাচ | ১৮টি |
| জয়ের সংখ্যা | ১১টি |
| পরাজয়ের সংখ্যা | ৬টি |
| ড্র-এর সংখ্যা | ১টি |
| মোট গোল স্কোর (অনুকূলে) | ২৭টি |
| মোট গোল হজম (প্রতিকূলে) | ১৯টি |
| গোল করতে ব্যর্থ হওয়া ম্যাচ | ২টি (১৯৮২ ও ১৯৯০) |
১৯৩০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত খেলা এই ১৮টি ম্যাচের মধ্যে কেবল ১৯৮২ ও ১৯৯০ সালের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনা কোনো গোল করতে সমর্থ হয়নি; বাকি ১৬টি আসরেই তারা উদ্বোধনী ম্যাচে গোলের দেখা পেয়েছে।