খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় এক নারীর দিকে লাঠি হাতে তেড়ে আসা তরুণ মো. রাকিবের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি করেছে। রাকিব গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার একটি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি হলেও, পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছে না বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদীপক্ষ।
মো. রাকিব, সফিপুর বাজার এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সহপাঠীরা তাকে আহমেদ রাকিব নামে চেনে। একই হত্যা মামলায় তার যমজ ভাই মো. সাকিবও আসামি। মামলাটি দায়েরের পর থেকে দুজনই পলাতক থাকলেও ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সময় তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, দুই নারী টিএসসিতে ঘুরতে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজনের দিকে রাকিব লাঠি তেড়ে আক্রমণ করেন। ভুক্তভোগী নারী কাঁদতে কাঁদতে বিচার দাবি করেন এবং জানান, পুরান ঢাকায় সাহরির খাবার খেয়ে তারা এখানে ঘুরতে এসেছিলেন, কিন্তু হঠাৎ হেনস্তার শিকার হন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত বুধবার ভোররাতে এই ঘটনার অনুসন্ধানের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কালিয়াকৈরের সফিপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় সাব্বির হোসেনকে কুপিয়ে ১০ তলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে হত্যার ঘটনা ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ছিলেন রাকিব ও তার যমজ ভাই সাকিব। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার দিন তারা একটি জিমে যান। পরে ভবনের ছাদে একযোগে উঠে স্থানীয় দুই কিশোরকে মুড়ি কিনতে পাঠানো হয়। কিছুক্ষণ পর কিশোররা ফিরে এসে নিচে রক্তমাখা অবস্থায় সাব্বিরকে পড়ে থাকতে দেখেন।
| ঘটনা | বিবরণ |
|---|---|
| নিহত | সাব্বির হোসেন |
| তারিখ | ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ |
| স্থান | সফিপুর পশ্চিমপাড়া, কালিয়াকৈর, গাজীপুর |
| আসামি | মো. রাকিব, মো. সাকিব |
| বাদী | মো. মহিউদ্দিন আবির |
| তদন্তকারী | গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশ |
| বর্তমান অবস্থা | পলাতক, গ্রেপ্তারি হয়নি |
মামলার বাদী মহিউদ্দিন আবির জানিয়েছেন, কালিয়াকৈর থানায় মামলা দায়ের করা হলেও পরবর্তীতে তা গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তরিত হয়। অভিযোগপত্র আদালতে প্রেরণ হলেও এখনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়নি। রাকিবকে ডাকসুর নির্বাচনের সময় ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে দেখা গেছে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, “মামলাটি ডিবি পুলিশ তদন্ত করেছে, গ্রেপ্তারের দায়িত্বও তাদের। আদালত থেকে যদি ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়, আমরা তা কার্যকর করব।”
গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসমত উল্লাহ জানিয়েছেন, “বর্তমানে আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সমাজে যথেষ্ট উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং ভুক্তভোগীর জন্য দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করছে স্থানীয়রা।