খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
গুজরাটের মেহসানার বিজাপুর তালুকের গেরিতা গ্রামে ঘটেছে এক চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক ঘটনা। স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ততার প্রমাণ দিতে গিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হাতে ভয়ঙ্কর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। তাঁকে জোর করে ফুটন্ত তেলের মধ্যে হাত ডোবাতে বাধ্য করা হয়। এতে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ইতিমধ্যেই পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিবাহের পর থেকেই গৃহবধূর চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করত শ্বশুরবাড়ির লোকজন। প্রায়ই চলত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। নির্যাতিতা বারবার নিজের নির্দোষ দাবি করলেও কেউ তা বিশ্বাস করত না। দীর্ঘদিনের এই নিপীড়নের চূড়ান্ত রূপ নেয় গত ১৬ সেপ্টেম্বর।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেদিন গৃহবধূর ননদ যমুনা ঠাকুর, ননদাই মনুভাই ঠাকুর এবং পরিবারের আরও দুজন সদস্য ভয়ঙ্কর কুসংস্কারপূর্ণ এক পরীক্ষায় তাঁকে বাধ্য করে। বলা হয়, যদি তিনি সত্যিই স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত হন, তবে ফুটন্ত তেলে হাত দিলেও তাঁর কিছু হবে না। মহিলা যখন এই অমানবিক পরীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকার করেন, তখন জোরপূর্বক তাঁকে ধরে ফুটন্ত তেলের মধ্যে হাত চুবিয়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর আকস্মিক চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ননদ, ননদাইসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা কেবল কুসংস্কার নয়, নারীর প্রতি ভয়াবহ নির্যাতনের দৃষ্টান্ত। তাঁদের মতে, নারীর ওপর সহিংসতা ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও অনেক নারী এভাবে নির্যাতনের শিকার হবেন।
খবরওয়ালা/এন