খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক ফুটবলের মহোৎসবে সর্বকালের পুরুষ গোলদাতাদের তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বিশ্বমঞ্চের মূল প্রতিযোগিতায় নিজের খেলোয়াড়ী জীবনে মোট ১৬টি গোল করার মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেন এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড। কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি অনবদ্য হ্যাটট্রিক করে এই অনন্য গৌরব অর্জন করেন তিনি। এই কীর্তির ফলে মেসি এখন জার্মানির সাবেক কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসার সাথে যৌথভাবে এই আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার মর্যাদা ভাগ করে নিচ্ছেন।
লিওনেল মেসি ২০২৬ সালের এই বৈশ্বিক আসর শুরু করার পূর্বে তার বিগত আসরগুলোর অংশগ্রহণ থেকে সর্বমোট ১৩টি গোল সংগ্রহ করেছিলেন। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৩-০ ব্যবধানে জয়লাভের ম্যাচে তার ৩টি গোল করার অনবদ্য পারফরম্যান্স তার খেলোয়াড়ী জীবনের মোট গোলসংখ্যাকে ১৬-তে উন্নীত করে। নিজের ১৬তম গোলটি করার মাধ্যমে এই আর্জেন্টাইন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ব্রাজিলের সাবেক ফরোয়ার্ড রোনালদো নাজারিওর ১৫ গোলের রেকর্ড অতিক্রম করেন এবং ক্লোসার সমকক্ষ হন।
তাছাড়া, এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে মেসি বর্তমানে খেলছেন এমন খেলোয়াড়দের মধ্যে এই রেকর্ডের পেছনে ছুটতে থাকা ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপের চেয়ে নিজের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নিয়েছেন। এই ঐতিহাসিক তালিকায় এমবাপে বর্তমানে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের ঠিক পেছনেই অবস্থান করছেন, যার বর্তমান গোলসংখ্যা ১৪টি।
ফুটবল ইতিহাসের বিভিন্ন প্রজন্মে এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি গোল করার এই মানদণ্ডটি বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত আসরের সময় এককভাবে এই রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছিলেন। সেই আসরে তিনি রোনালদো নাজারিওর পূর্ববর্তী ১৫টি গোলের কীর্তিকে ছাড়িয়ে যান। রোনালদোর যুগের পূর্বে পশ্চিম জার্মানির গের্ড ম্যুলার এবং ফ্রান্সের জুস্ত ফন্তেইন এই তালিকার শীর্ষস্থান দখল করেছিলেন। ফন্তেইন এখনো ফুটবল ইতিহাসে একটি অনন্য রেকর্ডের অধিকারী হয়ে আছেন, যিনি ১৯৫৮ সালের একটিমাত্র আসরেই নিজের ক্যারিয়ারের মোট ১৩টি গোল সম্পন্ন করেছিলেন।
মেসি ২০০৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে পাঁচটি ভিন্ন আসরে এই গোলসমূহ সম্পন্ন করেছেন:
২০০৬ (জার্মানি): ১টি গোল (গ্রুপ পর্ব: সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর বিরুদ্ধে ১টি গোল)
২০১০ (দক্ষিণ আফ্রিকা): ০টি গোল
২০১৪ (ব্রাজিল): ৪টি গোল (গ্রুপ পর্ব: বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে ১টি, ইরানের বিরুদ্ধে ১টি এবং নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে ২টি গোল)
২০১৮ (রাশিয়া): ১টি গোল (গ্রুপ পর্ব: নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে ১টি গোল)
২০২২ (কাতার): ৭টি গোল (গ্রুপ পর্ব: সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ১টি ও মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ১টি; শেষ ষোলো পর্ব: অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১টি; কোয়ার্টার ফাইনাল: নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ১টি; সেমিফাইনাল: ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ১টি এবং ফাইনাল বা চূড়ান্ত ম্যাচ: ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ২টি গোল)
২০২৬ (আমেরিকা/কানাডা/মেক্সিকো): ৩টি গোল (গ্রুপ পর্ব: কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ৩টি গোল)
ক্লোসা ২০০২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে টানা চারটি আসরে তার এই রেকর্ড গড়া মোট গোলসমূহ সংগ্রহ করেছিলেন:
২০০২ (দক্ষিণ কোরিয়া/জাপান): ৫টি গোল (গ্রুপ পর্ব: সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ৩টি, রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১টি এবং ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে ১টি গোল)
২০০৬ (জার্মানি): ৫টি গোল (গ্রুপ পর্ব: কোস্টারিকার বিরুদ্ধে ২টি ও ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে ২টি এবং কোয়ার্টার ফাইনাল: আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ১টি গোল)
২০১০ (দক্ষিণ আফ্রিকা): ৪টি গোল (গ্রুপ পর্ব: অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১টি; শেষ ষোলো পর্ব: ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১টি এবং কোয়ার্টার ফাইনাল: আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ২টি গোল)
২০১৪ (ব্রাজিল): ২টি গোল (গ্রুপ পর্ব: ঘানার বিরুদ্ধে ১টি এবং সেমিফাইনাল: ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ১টি গোল)