খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নবনির্বাচিত পরিচালকদের প্রথম আনুষ্ঠানিক কার্যনির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় বোর্ডের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিভাগ ও কমিটির দায়িত্ব বণ্টন চূড়ান্ত করা হয়। নবনির্বাচিত বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রথম সভাটি এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে শেষ হয়। সভার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো, বোর্ডের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত ‘ক্রিকেট পরিচালনা’ (ক্রিকেট অপারেশনস) বিভাগে আলাদা কোনো চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়নি। পৃথক কোনো প্রধান কর্মকর্তা না থাকায় প্রচলিত নিয়মানুযায়ী এই বিভাগটি সরাসরি বোর্ড সভাপতির তত্ত্বাবধানে থাকবে।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের পাশাপাশি ‘ওয়ার্কিং কমিটি’ এবং ‘ফ্যাসিলিটিজ বিভাগ’-এর প্রধান হিসেবেও দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে, বোর্ডের নবনির্বাচিত সহসভাপতি ফাহিম সিনহাকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দ্বৈত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তিনি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর ‘বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল’-এর পাশাপাশি তরুণের ক্রিকেটারদের প্রতিভা অন্বেষণ ও বিকাশের মূল কেন্দ্র ‘গেম ডেভেলপমেন্ট’ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বিসিবির মাঠ ও সুযোগ-সুবিধা এবং পাইপলাইনের ক্রিকেটারদের তৈরি করার অন্যতম প্রধান দুটি বিভাগ ‘গ্রাউন্ডস’ এবং ‘হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিট’-এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শানিয়ান তানিম। এর আগে বোর্ডের সর্বশেষ অ্যাডহক কমিটির মেয়াদে গ্রাউন্ডস বিভাগের দায়িত্বে সফলভাবে কাজ করা রফিকুল ইসলামকে এবার ‘নারী উইং’-এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় দলের সাবেক সফল অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীনকে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটারদের তদারকির জন্য ‘এইজ গ্রুপ’ বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এছাড়া বোর্ডের শৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত ‘ডিসিপ্লিনারি’ বিভাগের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। বোর্ডের আর্থিক লেনদেন ও বাজেট সংক্রান্ত ‘অর্থ’ বিভাগের দায়িত্ব পেয়েছেন ইসরাফিল খসরু। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ও কেনাকাটা সংক্রান্ত ‘সিকিউরিটি’ এবং ‘টেন্ডার অ্যান্ড পারচেজ’ কমিটির প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ।
ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন সুচারুভাবে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে ‘টুর্নামেন্ট’ বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীরকে। এছাড়া বোর্ডের যাবতীয় যোগাযোগ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে ‘লজিস্টিকস ও প্রটোকল’ কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল। ক্রিকেটারদের শারীরিক সুস্থতা ও চোট পুনর্বাসনের দায়িত্বে থাকা ‘মেডিকেল’ বিভাগের প্রধান করা হয়েছে প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ মাহবুব আহমেদ শামীমকে। অন্যদিকে, বোর্ডের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম বিষয়ক ‘মিডিয়া’ কমিটির নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আসিফ রাব্বানি।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগসহ ঢাকার বিভিন্ন স্তরের ক্রিকেট লিগ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ‘সিসিডিএম’ (ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস)-এর প্রধান করা হয়েছে মঈন উদ্দীন চৌধুরীকে। বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্রিকেটারদের জন্য গঠিত ‘ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড’ কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ। বোর্ডের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে গঠিত ‘অডিট’ কমিটির প্রধান করা হয়েছে সাইদ বিন জামানকে এবং ক্রিকেটার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণে নিয়োজিত ‘ওয়েলফেয়ার’ কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শেখ মোহাম্মদ রুহুল আমিন।
এই সভায় রাজশাহী বিভাগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত পরিচালক মীর শাকরুল আলমের পেশকৃত পদত্যাগপত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে বোর্ডে মোট পরিচালকদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে। এই ২৪ জন পরিচালকের মধ্যে ১৮ জন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। বাকি পরিচালকদের মধ্যে সরফরাজ আহমেদ এবং মির্জা ফয়সল আমীন দুটি আলাদা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান বা সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে, বাকি চার পরিচালক—মিজানুর রহমান, শান্তুনু ইসলাম, শফিকুল আলম এবং সাকিফ আহমেদ—আপাতত কোনো নির্দিষ্ট বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পাননি।
প্রথম সভায় বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্ব বণ্টনের পাশাপাশি দেশের ক্রিকেট অবকাঠামোর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বড় সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়েছে। ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম চত্বরে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক সুইমিংপুল নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি হোম অব ক্রিকেট মিরপুর স্টেডিয়ামের সাধারণ গ্যালারিতে দর্শকদের সুবিধার্থে স্থায়ী ছাদ বা ছাউনি স্থাপনের প্রস্তাবটি সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে পাস করা হয়। এছাড়া জাতীয় ক্রিকেট দলের সামগ্রিক যাতায়াত ব্যবস্থা আরও আরামদায়ক ও পেশাদার করার লক্ষ্যে বোর্ডের নিজস্ব অর্থায়নে একটি নতুন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত টিম বাস কেনার সিদ্ধান্তও এই সভায় নীতিগতভাবে অনুমোদন লাভ করেছে।