খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
দেশের বীমা খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) ২০২৬ সালের জন্য লাইফ ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স নবায়নের অবশিষ্ট ফি মওকুফের দাবি জানিয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। বীমা শিল্পের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি ও পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে সংগঠনটি এই বিশেষ ছাড়ের অনুরোধ জানিয়েছে।
গত ৮ মার্চ, রবিবার বিআইএর ভাইস-প্রেসিডেন্ট আদিবা রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি আইডিআরএ চেয়ারম্যানের দপ্তরে পাঠানো হয়। চিঠিতে বীমা আইনের সুনির্দিষ্ট ধারাগুলোর উল্লেখ করে ফি মওকুফের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে। মূলত বীমা আইনের ১১(২) ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি বীমা প্রতিষ্ঠানকে পরবর্তী বছরের নিবন্ধন নবায়নের আবেদন পূর্ববর্তী বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দাখিল করতে হয়। সেই মোতাবেক দেশের সব বীমা কোম্পানি ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত প্রাথমিক নিবন্ধন ফি ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা প্রদান করেছে।
তবে লাইসেন্স নবায়নের পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যে অতিরিক্ত বা অবশিষ্ট ফি পরিশোধের বিধান রয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চাপে তা বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গত ১ মার্চ ২০২৬ তারিখে বিআইএর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল আইডিআরএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়। উক্ত বৈঠকে বীমা কোম্পানিগুলোকে ২০২৬ সালের অবশিষ্ট লাইসেন্স নবায়ন ফি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য জোরালো অনুরোধ জানানো হয়।
বীমা খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় আইনি কাঠামোর প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে বীমা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা ও ফি জমা দেওয়ার সময়সীমার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| আইন ও ধারা | মূল বিষয়বস্তু | বর্তমান অবস্থা |
| বীমা আইন ১১(২) | পরবর্তী বছরের নবায়ন আবেদন ও ফি ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। | ২০২৬ সালের ফি ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে। |
| বীমা আইন ১১(৩) | ফি ও আবেদন প্রাপ্তির পর আইডিআরএ কর্তৃক লাইসেন্স নবায়ন। | প্রক্রিয়াটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন এবং অবশিষ্ট ফি মওকুফের আবেদন জানানো হয়েছে। |
| বিআইএর প্রস্তাব | লাইসেন্স নবায়নের অবশিষ্ট ফি মওকুফ ও প্রয়োজনে গেজেট সংশোধন। | আইডিআরএ-র সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বীমা কোম্পানিগুলো। |
বিআইএ তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেছে যে, বীমা খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহকসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে কোম্পানিগুলোর তারল্য সংকট দূর করা প্রয়োজন। লাইসেন্স নবায়ন ফি মওকুফ করা হলে কোম্পানিগুলো সেই অর্থ ব্যবসায়িক উন্নয়ন ও দাবি নিষ্পত্তিতে ব্যয় করতে পারবে। বিআইএ আরও জানিয়েছে যে, বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য যদি বিদ্যমান গেজেট সংশোধনের প্রয়োজন হয়, তবে সরকার যেন দ্রুত সেই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বীমা খাতের এই সংকটকালে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেলে তা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা কোম্পানিগুলোর ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এখন দেখার বিষয়, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এই দাবির প্রেক্ষিতে কী ধরনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।