খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
বেক্সিমকো গ্রুপের করপোরেট গ্যারান্টেড সহযোগী প্রতিষ্ঠান অটোমন লুপ অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শেয়ারহোল্ডার ওয়াসিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের আড়ালে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (৩০ জুলাই) রাতে রাজধানীর মধ্যবাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডির পক্ষ থেকে দেয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের তত্ত্বাবধানে ইন্সপেক্টর মো. ছায়েদুর রহমানের নেতৃত্বে সিআইডির একটি দল ওয়াসিউরকে রাজধানীর মধ্যবাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সিআইডির গণমাধ্যম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় জনতা ব্যাংকের দিলকুশা লোকাল অফিস থেকে অটোমন লুপ অ্যাপারেলস লিমিটেডে তিনটি এলসি বা সেলস কন্ট্রাক্ট গ্রহণ করে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সময়কালে আমদানির নামে পণ্য রফতানি করে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী চার মাসের মধ্যে রফতানি মূল্য দেশে ফেরত আনার বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি তা ফেরত আনেনি।
সিআইডির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তদন্তে জানা যায় ওটাম লুপ অ্যাপারেলস লিমিটেড ইচ্ছাকৃতভাবে রপ্তানি মূল্য দেশে ফেরত না এনে অর্থ পাচার করেছে, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী অপরাধ। ওয়াসিউর রহমান প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ও অন্যান্য এজাহারনামীয় আসামিরা পরিকল্পিতভাবে স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন।
এ ঘটনায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)-এর ৪ (২)/৪ ধারায় ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মতিঝিল থানায় মামলা (নম্বর-১২) দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটে তদন্তাধীন রয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তার ওয়াসিউর রহমানকে বৃহস্পতিবার রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ও তাঁর সহযোগীদের বিদেশে কোনো অবৈধ সম্পদ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানির (বেক্সিমকো গ্রুপ) প্রতিষ্ঠাতা ও ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। অভিযোগ রয়েছে, সালমান এফ রহমান আত্মীয়স্বজনদের নামে একাধিক প্রতিষ্ঠান খুলে বিদেশে অর্থ পাচারের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।
খবরওয়ালা/এসআর