খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ২২ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘদিন ধরে চলা ৩০ শতাংশ নারী কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—চলতি সপ্তাহ অথবা আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) হেলালুজ্জামান সরকার জানিয়েছেন, “নারী কোটা বাতিল সংক্রান্ত নথি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই প্রজ্ঞাপন জারি হবে।”
এ সিদ্ধান্তের আগে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) নারী কোটা রাখার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত চেয়েছিল। এরপর এক বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুসরণ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানোর পক্ষে মত দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশনায় সরকারি চাকরিতে অধিকাংশ কোটা বাতিল করে কেবল ৭ শতাংশ কোটা বহাল রাখা হয়েছে। সেই অনুসারে এনটিআরসিএর মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষক নিয়োগে একই ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী প্রার্থীদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা চালু করা হয়। কিন্তু এই কোটা পূরণে দীর্ঘদিন সমস্যা থাকায় ২০০৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এটি বাধ্যতামূলক করে বিশ্বব্যাংকের সুপারিশে। তবে ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার অনগ্রসর এলাকার নারী প্রার্থীর স্বল্পতা বিবেচনায় গোপালগঞ্জসহ কিছু জেলায় এই কোটা শিথিল করে।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত বছরের ২৪ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের পর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনার ভিত্তিতে নবম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে ৭ শতাংশ কোটা রেখে বাকি পদগুলোতে মেধাভিত্তিক নিয়োগের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি হয়। বর্তমানে যে ৭ শতাংশ কোটা রয়েছে, তার মধ্যে ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য এবং বাকি ১ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জনগণের জন্য।
এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এটি নারী শিক্ষকদের অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকার বলছে, নিয়োগ এখন থেকে সম্পূর্ণভাবে মেধার ভিত্তিতে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে গুণগতমান নিশ্চিত করবে।
খবরওয়ালা/এমএজেড