খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জানিয়েছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের জন্য তারা প্রস্তুত, তবে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার জন্য রাশিয়া তার মূল শর্তগুলো থেকে সরে আসবে না। রোববার রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আরআইএ নোভোস্তিকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত হিসেবে বিবেচিত ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রচেষ্টা এখনও সাফল্য দেখায়নি। গত মাসে হঠাৎ করেই হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে নির্ধারিত শীর্ষ বৈঠক বাতিল করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট পুতিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভের ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলে পশ্চিমা গণমাধ্যম জানিয়েছে।
ল্যাভরভ বলেন, “পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং আমি নিয়মিত যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা বুঝি। ইউক্রেন ইস্যু ও দ্বিপাক্ষিক এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আলোচনাটি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা টেলিফোনে যোগাযোগ রাখি এবং প্রয়োজনে মুখোমুখি বৈঠকেও প্রস্তুত।”
প্রায় চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধের পরও রাশিয়ান সেনারা দেশটির প্রায় ১৯ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। মস্কো দাবি করছে, এই অঞ্চল রাশিয়ার অংশ, তবে ইউক্রেন ও পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো এটি কখনোই স্বীকার করবে না।
ল্যাভরভ আরও জানান, ১৫ আগস্ট আলাস্কার আঙ্কোরেজে পুতিন ও ট্রাম্পের বৈঠকে যেসব ‘বোঝাপড়া’ হয়েছিল, তা ২০২৪ সালের জুনে পুতিনের শর্ত এবং ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের প্রস্তাবের ভিত্তিতে গঠিত। রাশিয়ার শর্তের মধ্যে রয়েছে, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা বাতিল করা এবং মস্কো যে চারটি প্রদেশকে নিজেদের অংশ দাবি করে (দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক—যা দোনবাস অঞ্চল, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া) সেখান থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহার।
বর্তমানে রাশিয়া ২০১৪ সালে দখল করা ক্রিমিয়া, লুহানস্ক ও দোনেৎস্কের বড় অংশ, খেরসন ও জাপোরিঝিয়ার ৭৫ শতাংশ এবং খারকিভ, সুমি, মিকোলাইভ ও দিনিপ্রোপেট্রোভস্কের কিছু অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্বীকার করেছেন, রাশিয়ার দখল থাকা কিছু এলাকা ডি ফ্যাক্টো স্বীকৃত হতে পারে, তবে আইনগতভাবে নয়। তিনি বলেছেন, তার কোনো ভূখণ্ড ছাড়ার অধিকার নেই এবং এমন পদক্ষেপ ইউক্রেন ও তার মিত্রদের নতুন রুশ হামলার ঝুঁকিতে ফেলবে।
সূত্র: রয়টার্স।