খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উৎকর্ষ ও গ্রাহক আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়ে টানা অষ্টম বারের মতো বাংলাদেশে শীর্ষ বাণিজ্যিক অর্থায়নকারী ব্যাংকের মর্যাদা লাভ করেছে দি হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি)। বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ‘ইউরোমানি’ পরিচালিত এক বৈশ্বিক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। কেবল বাংলাদেশেই নয়, ব্যাংকটি বিশ্বব্যাপী টানা নবম বারের মতো এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে টানা সপ্তম বারের মতো সেরা আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানটি অক্ষুণ্ণ রেখেছে।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাণিজ্যিক অর্থায়নের সক্ষমতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ‘ইউরোমানি ট্রেড ফিন্যান্স সার্ভে’ একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত। ২০২৬ সালের এই স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষে বিশ্বের ৯৬টি দেশের ১২ হাজার ৭০০ জন ট্রেড ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞ এবং করপোরেট ট্রেজারারদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে জরিপটি পরিচালিত হয়। এবার এইচএসবিসি বিশ্বজুড়ে মোট ১৮টি প্রধান বাজারের মধ্যে ১৬টিতেই শীর্ষস্থান অর্জন করে নিজেদের একাধিপত্য প্রমাণ করেছে।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের এই সাফল্য মূলত তাদের উদ্ভাবনী পণ্য, উন্নত প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জটিল বাণিজ্যিক সমস্যার সমাধান প্রদানের সক্ষমতাকে নির্দেশ করে। গত রোববার এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ব্যাংকটি এই তথ্য সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করে।
| স্বীকৃতি বা অর্জনের ক্ষেত্র | সাফল্যের ধারাবাহিকতা | অবস্থান |
| বাংলাদেশ (জাতীয় পর্যায়) | টানা ৮ম বার | ১ম স্থান |
| এশিয়া প্যাসিফিক (আঞ্চলিক) | টানা ৭ম বার | ১ম স্থান |
| বিশ্বব্যাপী (আন্তর্জাতিক) | টানা ৯ম বার | ১ম স্থান |
| ইউরোমানি জরিপের ব্যাপ্তি | ৯৬টি দেশ | ১৮টির মধ্যে ১৬টি বাজারে শীর্ষ |
| জরিপে অংশগ্রহণকারী | ১২,৭০০ বিশেষজ্ঞ | ট্রেড ফিন্যান্স ও করপোরেট ট্রেজারার |
এই অনন্য অর্জনের বিষয়ে এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমান গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যের গুরুত্ব ও জটিলতা উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন চ্যালেঞ্জিং সময়ে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। এই স্বীকৃতি মূলত আমাদের কর্মীদের নিষ্ঠা এবং গ্রাহকদের সাথে আমাদের শক্তিশালী অংশীদারত্বের প্রতিফলন।”
ব্যাংকটির গ্লোবাল ট্রেড সলিউশনসের প্রধান আহমদ রাবিউল হাসান জানান, বাংলাদেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্ববাজারের সাথে সংযুক্ত করতে এইচএসবিসি তাদের উদ্ভাবনী ব্যাংকিং প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে। তিনি মনে করেন, এই বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিদেশের মাটিতে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।
১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে এইচএসবিসি বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। সূচনালগ্ন থেকেই ব্যাংকটি করপোরেট, প্রাতিষ্ঠানিক এবং রিটেইল ব্যাংকিং খাতে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে আসছিল। তবে কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে সম্প্রতি ব্যাংকটি বাংলাদেশ থেকে তাদের রিটেইল বা খুচরা ব্যাংকিং কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে এইচএসবিসি বাংলাদেশ মূলত বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং বহুজাতিক সংস্থাগুলোর বাণিজ্যিক অর্থায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং সেবার ওপর পূর্ণ মনোযোগ প্রদান করছে।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের এই অর্জন কেবল একটি ব্যাংকের সাফল্য নয়, বরং এটি দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কাঠামোর সক্ষমতা বৃদ্ধিরও একটি ইতিবাচক বার্তা। বিশ্বজুড়ে ১৮টির মধ্যে ১৬টি বাজারে শীর্ষস্থান দখল করার মাধ্যমে ব্যাংকটি প্রমাণ করেছে যে, উন্নত গ্রাহকসেবা ও শক্তিশালী প্রযুক্তিগত ভিত্তি থাকলে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা সম্ভব। আগামী দিনেও এইচএসবিসি তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাংলাদেশের রপ্তানি ও আমদানিনির্ভর বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।