খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বোরকা পরে ছদ্মবেশে পাঁচতলা ভবনে উঠে ১৯ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ২৬ বছর বয়সী এক তরুণের বিরুদ্ধে।
সোমবার (২৩ জুন) সকালে রাজধানীর উত্তর-পূর্ব দিল্লির অশোক নগর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। নিহত কিশোরীর নাম নেহা এবং অভিযুক্ত তরুণের নাম তৌফিক, যিনি উত্তর প্রদেশের রামপুর জেলার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর তৌফিক পালিয়ে যান, তবে মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে নয়াদিল্লির জ্যোতি নগর থানার পুলিশ।
বুধবার (২৫ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, সোমবার সকালে তৌফিক বোরকা পরে নেহাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। পরে তিনি ছাদে নিয়ে গিয়ে নেহাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় নেহাকে গুরু ত্যাগ বাহাদুর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেদিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে, একজন বোরকা পরা ব্যক্তি ভবনে প্রবেশ করছেন এবং পরে সন্দেহজনকভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তৌফিক স্বীকার করেন যে, তিনি নিজের পরিচয় গোপন করতে ও সন্দেহ এড়াতে বোরকা পরে ঘটনাস্থলে যান।
পুলিশ দাবি করেছে, নেহা ও তৌফিকের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা কয়েক মাস ধরে চলছিল। তৌফিকের পরিবারের পক্ষ থেকে অন্য একটি বিয়ের পরিকল্পনার খবর জানতে পেরে নেহা আপত্তি জানান। এ নিয়ে ছাদে দুজনের মধ্যে তর্ক বাধে এবং একপর্যায়ে ঘটে এই হত্যাকাণ্ড।
তবে নেহার পরিবার এই দাবি মানতে নারাজ। তারা বলছে, নেহা কখনও তৌফিকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়াননি। বরং তিনি প্রতি বছর রাখি পরিয়ে তাঁকে ভাই হিসেবে দেখতেন।
পরিবার আরও জানায়, তৌফিক গত তিন বছর ধরে তাদের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন এবং পারিবারিকভাবেই পরিচিত ছিলেন।
ঘটনার পর নেহার পরিবার সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
বর্তমানে তৌফিককে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তদন্তকারীরা বলছেন, হত্যার উদ্দেশ্য ও পূর্বপরিকল্পনার দিকগুলো আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
খবরওয়ালা/আরডি