খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
উত্তরাঞ্চলের নদীনির্ভর ঐতিহ্য, ইতিহাস ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে ঘিরে কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদে যাত্রা শুরু করেছে প্রমোদতরি ‘মাস্তুল’। চিলমারী নদীবন্দরকে কেন্দ্র করে নদী, চর ও গ্রামীণ জনপদভিত্তিক পর্যটন বিকাশের লক্ষ্যে এ উদ্যোগকে নতুন সম্ভাবনার দ্বার হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন অবহেলিত উত্তরাঞ্চলের প্রবহমান নদীপথকে পর্যটনের মূলধারায় যুক্ত করার একটি সংগঠিত প্রয়াস হিসেবে ‘মাস্তুল’ ইতোমধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
উদ্যোক্তারা জানান, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রমোদতরিটি চিলমারী নদীবন্দরেই অবস্থান করবে। এখান থেকে পর্যটকদের নিয়ে তিস্তা–ব্রহ্মপুত্র মিলনস্থল, ধরলা–ব্রহ্মপুত্র সংযোগ এলাকা, দুধকুমার ও গঙ্গাধর নদীর মোহনা, ব্রহ্মপুত্রের বাংলাদেশে প্রবেশমুখ এবং রৌমারী বন্দর হয়ে সাহেবের আলগা পর্যন্ত বিভিন্ন নদীপথে ভ্রমণের আয়োজন থাকবে। পাশাপাশি চরাঞ্চলের জীবনযাপন, তাঁতপল্লি, কৃষিকাজ ও নদীকেন্দ্রিক সংস্কৃতি সরেজমিনে দেখার সুযোগ রাখা হয়েছে।
১৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৬ ফুট প্রস্থের এ প্রমোদতরিতে একসঙ্গে ২৮ জন অতিথির আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। এক দিনের নৌবিহার এবং দুই দিন এক রাতের প্যাকেজ চালু আছে। আগ্রহীরা পারিবারিক বা দলগতভাবে ভাড়া নিয়ে বিশেষ ভ্রমণও আয়োজন করতে পারবেন। প্রমোদতরির কক্ষগুলোতে মৌলিক আবাসনসুবিধা, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং ছাদে উন্মুক্ত বসার স্থান রাখা হয়েছে, যাতে নদী ও চরভূমির বিস্তৃত দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
নিচে প্রমোদতরি ‘মাস্তুল’-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| দৈর্ঘ্য | ১৬০ ফুট |
| প্রস্থ | ১৬ ফুট |
| ধারণক্ষমতা | ২৮ জন |
| ভ্রমণ প্যাকেজ | এক দিন, দুই দিন এক রাত |
| প্রধান রুট | চিলমারী কেন্দ্রিক ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও সংলগ্ন চরাঞ্চল |
প্রমোদতরিটির যাত্রা শুরু হয় মাওয়া ফেরিঘাট থেকে। উদ্বোধনী সফরে দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের উদ্যোক্তারা অংশ নেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল উত্তরাঞ্চলে নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের বাস্তব সম্ভাবনা যাচাই করা। মাওয়া থেকে রওনা হয়ে প্রমোদতরিটি চিলমারীতে নোঙর করে এবং সেখান থেকে রৌমারী উপজেলা, চর শৌলমারী তাঁতপল্লি ও আশপাশের চরাঞ্চল পরিদর্শন করা হয়।
নদী ও চরভিত্তিক পর্যটন উদ্যোক্তা রেজাউল করিম সুমন বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অর্থনীতি নদীকেন্দ্রিক। ব্রহ্মপুত্র–যমুনা অববাহিকাকে ঘিরে প্রাচীন বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার যে ঐতিহ্য রয়েছে, তা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই তাঁদের উদ্দেশ্য। তাঁর মতে, একসময় চট্টগ্রাম থেকে চিলমারী বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত নৌপথ বঙ্গদেশকে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করেছিল।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক আশা প্রকাশ করে বলেন, এ উদ্যোগ স্থানীয় কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও নৌপরিবহন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। উদ্যোক্তা সাকিব মাহমুদ জানান, টাঙ্গুয়ার হাওরের মতোই ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা নদী এবং চরাঞ্চলও সম্ভাবনাময় পর্যটনভূমি। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ নৌসুবিধা নিশ্চিত করা গেলে উত্তরাঞ্চলের নদীকেন্দ্রিক পর্যটন দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।