খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে পৌষ ১৪৩২ | ১১ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাদ্দাম হোসেন হত্যার প্রধান আসামি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দিলীপের ফাঁসির দাবিতে শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিহতের পরিবারসহ স্থানীয়রা একই সঙ্গে দেলোয়ার হোসেনকে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কারেরও দাবি জানান।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে শহরের কান্দিপাড়া এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল হাসনাত ভজন, জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল-আমীন, নিহত সাদ্দামের মা খোদেজা বেগম, স্ত্রী ফারজানা আক্তার তৃণা এবং এলাকার অন্যান্য সচেতন নাগরিক।
বক্তারা জানান, গত ২৭ নভেম্বর রাতে সাদ্দাম হোসেনকে তার নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুলি ও জবাই করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দিলীপ এবং তার সহযোগীরা। স্থানীয়রা বলছেন, এই হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামি দিলীপকে ফাঁসি দিতে হবে এবং তার অস্ত্র ও সশস্ত্র কার্যক্রম তৎক্ষণাৎ বন্ধ করতে হবে।
এর আগে, ২৮ নভেম্বর রাতে নিহতের বাবা মোস্তফা কামাল (মস্তু মিয়া) সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা অনুযায়ী, প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেন দিলীপের সঙ্গে আরও ছয় জনের নাম রয়েছে। র্যাব ১ ডিসেম্বর রাজধানীর বাসাবো এলাকা থেকে দেলোয়ার হোসেন দিলীপ ও তার সহযোগী বাবুলকে গ্রেফতার করে।
স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার দিলীপের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় অন্তত ১৯টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে হত্যা, অস্ত্র আইনের লঙ্ঘন ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ২৭ নভেম্বর ২০২৬ | সাদ্দাম হোসেনকে গুলি ও জবাই করে হত্যা করা হয় |
| ২৮ নভেম্বর ২০২৬ | বাবা মোস্তফা কামাল হত্যা মামলার জন্য সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের |
| ১ ডিসেম্বর ২০২৬ | র্যাব দিলীপ ও সহযোগী বাবুলকে রাজধানী থেকে গ্রেফতার করে |
| প্রাথমিক দাবি | প্রধান আসামি দিলীপকে ফাঁসি, দল থেকে বহিষ্কার ও অস্ত্র উদ্ধার |
| মামলা সংখ্যা | গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে অন্তত ১৯টি মামলা রয়েছে |
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেলোয়ার হোসেন দিলীপকে শাস্তি দেওয়া হবে এবং এই ধরনের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।