খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২৭ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারতের ১৬ কোটি প্রতিবন্ধী নাগরিকদের মধ্যে ৮০ শতাংশ এখনও স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আসতে পারছেন না, এক নতুন সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। ন্যাশনাল সেন্টার ফর প্রোমোশন অফ এমপ্লয়মেন্ট ফর ডিজেবল্ড পিপল (এনসিপিইডিপি) ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে একটি জাতীয় সমীক্ষা চালিয়েছে, যাতে দেশের পাঁচ হাজার প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেছেন। সমীক্ষার ফলাফলে উঠে এসেছে যে, প্রতিবন্ধীরা স্বাস্থ্য বীমা পাওয়ার জন্য নানা রকম বাধার মুখে পড়ছেন, এবং বীমা কোম্পানিগুলি তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।
সমীক্ষাটি “ইনক্লুসিভ হেলথ কভারেজ ফর অল: ডিসএবিলিটি, ডিসক্রিমিনেশন অ্যান্ড হেলথ ইন্স্যুরেন্স ইন ইন্ডিয়া” শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। এর ফলাফলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যে সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তি স্বাস্থ্য বীমার জন্য আবেদন করেন, তাদের মধ্যে ৫৩ শতাংশকে কোনো কারণ ছাড়াই বীমা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এর ফলে, দেশের প্রতিবন্ধী জনগণ তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ছে।
বীমা সংস্থাগুলি এখনও প্রতিবন্ধীদের ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে এবং অটিজম, মানসিক প্রতিবন্ধকতা, বৌদ্ধিক প্রতিবন্ধকতা ও থ্যালাসেমিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বীমা আবেদন অগ্রাহ্য করে। এই পরিস্থিতিতে ডিজিটাল বীমা প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারযোগ্যতা নিয়েও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, শ্রবণ প্রতিবন্ধী এবং বৌদ্ধিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এসব প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে গিয়ে নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
এই অবস্থা নিয়ে এনসিপিইডিপি’র নির্বাহী পরিচালক আরমান আলি বলেন, “ভারতের স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থা এখনও কাঠামোগত বৈষম্যের শিকার, যা প্রতিবন্ধীদের জন্য গভীর একটি সংকট তৈরি করেছে।” তিনি আরও বলেন, “সরকারি আইন এবং নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে প্রতিবন্ধী জনগণ এখনও তাদের প্রাপ্য স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত।”
অযাচিত অসুবিধা এবং বৈষম্য কমানোর জন্য, সমীক্ষাটি কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় সব প্রতিবন্ধী নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করা, যাতে কোনও অতিরিক্ত শর্ত বা কাগজপত্রের ঝামেলা তাদের বীমা প্রাপ্তির পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়।
এছাড়া, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, পুনর্বাসন এবং সহায়ক প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শও দেয়া হয়েছে। সমীক্ষা আরও প্রস্তাব করেছে যে, বীমা নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে নীতি প্রণয়ন করা হোক।