খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:২ পিএম
ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী পাকিস্তানের আইএসআই এবং বাংলাদেশভিত্তিক একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সমন্বয়ে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা রুখে দিয়েছে। তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে অভিযান চালিয়ে অন্তত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এই তথ্য রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তামিলনাড়ুর তিরুপুর জেলার একটি পোশাক উৎপাদন ইউনিট থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছে: মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ শাবাত, উমর, মোহাম্মদ লিটন, মোহাম্মদ শহীদ এবং মোহাম্মদ উজ্জ্বল। এছাড়া, পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা জাল আধার কার্ড ব্যবহার করে পরিচয়পত্র তৈরি করছিল। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মোট ৮টি মোবাইল ফোন এবং ১৬টি সিম কার্ড, যা হামলার পরিকল্পনা এবং যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল।
তামিলনাড়ু পুলিশ এদেরকে গ্রেপ্তার করার পর দিল্লি পুলিশের হাতে হস্তান্তর করেছে। আরও তদন্ত চলমান রয়েছে।
ভারতের গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের লস্কর-ই-তৈয়বা সংগঠন রাজধানী দিল্লিতে হামলার পরিকল্পনা করছিল। মূল লক্ষ্য ছিল লাল কেল্লা এবং চাঁদনী চকের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরসহ ধর্মীয় স্থাপনাগুলি। সূত্রের মতে, সন্ত্রাসীরা বিস্ফোরক ডিভাইস ব্যবহার করে হামলার ছক কষছিল।
নিম্নে গ্রেপ্তারকৃতদের সংক্ষিপ্ত তথ্য সারণি আকারে তুলে ধরা হলো:
| নাম | ধরা হয়েছে | স্থান | জাতীয়তা | বিশেষ তথ্য |
|---|---|---|---|---|
| মিজানুর রহমান | হ্যাঁ | তিরুপুর, তামিলনাড়ু | ভারতীয় | পোশাক ইউনিট থেকে গ্রেপ্তার |
| মোহাম্মদ শাবাত | হ্যাঁ | তিরুপুর, তামিলনাড়ু | ভারতীয় | জাল আধার কার্ড ব্যবহার |
| উমর | হ্যাঁ | তিরুপুর, তামিলনাড়ু | ভারতীয় | মোবাইল ও সিম উদ্ধার |
| মোহাম্মদ লিটন | হ্যাঁ | তিরুপুর, তামিলনাড়ু | ভারতীয় | — |
| মোহাম্মদ শহীদ | হ্যাঁ | তিরুপুর, তামিলনাড়ু | ভারতীয় | — |
| মোহাম্মদ উজ্জ্বল | হ্যাঁ | তিরুপুর, তামিলনাড়ু | ভারতীয় | — |
| অজানা ব্যক্তি ১ | হ্যাঁ | পশ্চিমবঙ্গ | অজানা | — |
| অজানা ব্যক্তি ২ | হ্যাঁ | পশ্চিমবঙ্গ | অজানা | একজন বাংলাদেশি নাগরিক |
নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য চক্র ও গোষ্ঠী চিহ্নিত করার জন্য তদন্ত চালাচ্ছে। এই ধরণের হামলার পরিকল্পনা সময়মতো ধ্বংস করার কারণে ভারতের বড় ধর্মীয় ও জনসমাগম স্থাপনাগুলিকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়েছে।
এ ঘটনায় ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে এবং দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
মন্তব্য