খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে মাঘ ১৪৩২ | ৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। এই চুক্তির প্রেক্ষাপটে তিনি জানিয়েছেন, ভারত রাশিয়ার তেল ক্রয় কমিয়ে আনতে সম্মত হয়েছে এবং দেশটির আমদানি শুল্কও ১৮ শতাংশে নামানো হয়েছে। তবে রাশিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তেল না কেনার বিষয়ে তারা এখনও ভারতের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা নিশ্চয়তা পায়নি।
রুশ প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বলেন,
“আমরা নয়াদিল্লির কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাইনি। আমরা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে সম্মান করি। কিন্তু রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্কও আমাদের কাছে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হোক।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মঙ্গলবার ট্রাম্পের ঘোষণার সময় তিনি দাবি করেন, নয়াদিল্লি রাশিয়ার তেল কেনার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও সম্ভাব্য ভেনেজুয়েলার তেল ক্রয় করতে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্প বলেন,
“মোদি সরকার রাশিয়ার তেল কিনতে বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন। এর মাধ্যমে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের তীব্রতা কমানো সম্ভব হবে। প্রতিদিন-প্রতি সপ্তাহে হাজার হাজার মানুষ এই সংঘর্ষে নিহত হচ্ছেন।”
এরপর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাম্পকে ১৪০ কোটি ভারতীয় নাগরিকের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে তেল ক্রয় বা চুক্তির বিস্তারিত নিশ্চিত কোনো তথ্য দেননি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের ঘোষণা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে করা হতে পারে। কারণ, রাশিয়া এখনও ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে তেল সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা দেয়নি। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিম্নলিখিত টেবিলে বিষয়টি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| চুক্তি ঘোষক | মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |
| ভারতের প্রতিক্রিয়া | আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নিশ্চিত তথ্য এখনও দেওয়া হয়নি |
| রাশিয়ার অবস্থান | ভারত থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি; দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ |
| শুল্ক হ্রাস | ভারতের পণ্যের আমদানি শুল্ক ১৮% করা হয়েছে |
| তেলের সম্ভাব্য উৎস | যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা |
| লক্ষ্য | ইউক্রেনে যুদ্ধের তীব্রতা হ্রাস |
পরিস্থিতি এখনও চলমান এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাবের দিক দিয়ে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত তার শক্তিশালী কৌশলগত অবস্থান বজায় রেখে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে।