খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে গমনেচ্ছু বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক সতর্কবার্তা প্রদান করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দূতাবাসের এক দাপ্তরিক বার্তায় জানানো হয়েছে যে, ভিজিটর ভিসা (বি১/বি২) নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে সেখানে কোনো ধরনের চাকরি বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই ভিসার প্রধান উদ্দেশ্য পর্যটন এবং সীমিত ব্যবসায়িক যোগাযোগ হলেও, একে কাজের অনুমতি হিসেবে ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি অনুযায়ী, বি১ এবং বি২ ভিসাকে একত্রে ‘ভিজিটর ভিসা’ হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে এই দুই প্রকারের ভিসার কার্যকারিতা ও ব্যবহারের ক্ষেত্র ভিন্ন। সাধারণত স্বল্পমেয়াদী প্রয়োজনে এই ভিসা প্রদান করা হয়।
বি১ (B1) ভিসা: এটি মূলত ব্যবসায়িক বা পেশাগত কারণে ব্যবহারের জন্য। যেমন—কোনো বৈজ্ঞানিক, শিক্ষা বা বাণিজ্যিক সম্মেলনে যোগদান, স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনা অথবা কোনো ব্যবসায়িক চুক্তির জন্য দরকষাকষি।
বি২ (B2) ভিসা: এটি মূলত আনন্দভ্রমণ বা পর্যটনের জন্য। ছুটির দিন কাটানো, বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনের সাথে সাক্ষাৎ এবং বিশেষ কোনো চিকিৎসা গ্রহণের জন্য এই ভিসা কার্যকর।
মার্কিন দূতাবাসের বার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, এই ভিসার অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনো ব্যক্তি সে দেশের অভ্যন্তরে কোনো নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করতে পারবেন না। এমনকি ফ্রিল্যান্সিং বা খণ্ডকালীন কোনো কাজের মাধ্যমে পারিশ্রমিক গ্রহণও ভিসা শর্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। মার্কিন সরকারের অভিবাসন আইন অনুযায়ী, ভিজিটর ভিসাধারীরা কেবল তখনই বেতন পেতে পারেন যদি সেই কাজের উৎস এবং প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে অবস্থিত হয় এবং কাজটির প্রকৃতি ব্যবসায়িক সফরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
| অনুমোদিত কার্যক্রম (B1/B2) | নিষিদ্ধ বা অননুমোদিত কার্যক্রম |
| অংশীদারদের সাথে ব্যবসায়িক পরামর্শ করা। | পূর্ণকালীন বা খণ্ডকালীন চাকরি করা। |
| কোনো বৈজ্ঞানিক বা পেশাদার সম্মেলনে যোগ দেওয়া। | মার্কিন কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে পারিশ্রমিক নেওয়া। |
| স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা (পারিশ্রমিকহীন)। | গণমাধ্যম বা সাংবাদিকতার কাজ করা (I ভিসা প্রয়োজন)। |
| দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ ও আত্মীয়দের সাথে সাক্ষাৎ। | স্থায়ীভাবে বসবাসের চেষ্টা করা। |
| চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। | পারিশ্রমিক নিয়ে পারফর্ম করা (ক্রীড়াবিদ বা শিল্পী)। |
মার্কিন দূতাবাস হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, ভিসার শর্তাবলি যথাযথভাবে পালন করা প্রতিটি ভিসাধারীর ব্যক্তিগত নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। যদি কোনো ব্যক্তি ভিজিটর ভিসার আড়ালে কাজ করেন এবং তা মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের (USCIS) নজরে আসে, তবে তার বর্তমান ভিসা তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হতে পারে। এর ফলে ওই ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার (Deportation) করা হতে পারে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে যেকোনো ধরনের ভিসার আবেদন করার ক্ষেত্রে তিনি দীর্ঘমেয়াদী বা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে পারেন।
বর্তমানে অনেকেই প্রলোভন বা অজ্ঞতার কারণে ভিজিটর ভিসাকে কাজের সুযোগ হিসেবে দেখার ভুল করেন। দূতাবাস পরামর্শ দিয়েছে যে, যদি কেউ যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করতে চান, তবে তাকে অবশ্যই নির্ধারিত ‘ওয়ার্ক ভিসা’ (যেমন H-1B, L-1 বা অন্যান্য ক্যাটাগরি) এর জন্য আবেদন করতে হবে। সঠিক তথ্য না জেনে বা ভুল পথে পরিচালিত হয়ে ভিজিটর ভিসার অপব্যবহার করলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আন্তর্জাতিক ভ্রমণের নথিপত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পরিশেষে, দূতাবাস নাগরিকদের অনুরোধ করেছে যেন তারা ভিসা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য কেবল মার্কিন সরকারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অনুসরণ করেন এবং কোনো মধ্যস্থতাকারী বা দালালের খপ্পরে না পড়েন।