কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২৬ মার্চ ২০২৫
‘ভাবছি যে সামনে ঈদের আর যে কয়টা দিন আছে। বেচাকেনা বাড়বে। কিন্তু আসলে তা নয়। কারণ বর্তমান সরকারের সময়ে মানুষের হাতে টাকা নেই। সবকিছুর দাম বেশি, ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। আবার কাঁচামালের সঙ্গে উৎপাদিত পণ্যের দামের সামঞ্জস্য নেই। এসব কারণে এবারের ঈদে তেমন বেচাকেনা নেই। ব্যবসায়ীরা হতাশ।’
মঙ্গলবার ( ২৫ মার্চ) দুপুরে আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর শহরের নুরুল টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাকারিয়া আনছার মিলন। তাঁর ভাষ্য, একটা নির্বাচিত সরকার যতদিন না আসবে দেশে। ততদিন পর্যন্ত মনে হয় বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না।
কুমারখালী জোস কালেকশনের প্রোপাইটর রুবেল হোসেন বলেন, বাজারে ক্রেতাদের বেশ ভিড় আছে। তবে সেই তুলনায় বেচাকেনা নেই। পোশাক দেখে দেখেই চলে যাচ্ছেন ক্রেতারা। এবারই প্রথম ঈদে বেচাকেনা নেই।
মুসলমানদের দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতরের উৎসব। ঈদের সময় যতই ঘুনিয়ে আসছে। ততই ভিড় বাড়ছে বিপণি বিতানগুলোতে। পছন্দের পোশাক কিনতে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছুটছেন ক্রেতারা। ছেলেরা পাঞ্জাবি – পাজামা আর মেয়েরা কিনছেন থ্রি-পিস। তবে গেলবারের তুলনায় পোশাকের দাম বেশি হওয়ায় দরকষাকষিতে চলছে বেচাকেনা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুমারখালী শহরের হলবাজার, গণমোড়, থানা মোড়সহ এলাকা ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে।
এসময় রিফাত ফ্যাশান কর্ণারের প্রোপাইটর নাজমুল হোসেন বলেন, বেচাকেনা নেই। অন্যান্য সময়ের চেয়েও লোকজন কম। মনেই হচ্ছেনা ঈদের বাজার। তারপর আবার গতবারের চেয়ে প্রতি পোশাকে দাম বেড়েছে ২০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা।
৬৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা মূল্যের পর্যন্ত পাঞ্জাবী কালেকশনে আছে বলে জানালেন ধ্রুবতারা বস্ত্রালয়ের প্রোপাইটর রিপন হোসেন। তিনি বলেন, প্রথমদিকে কিছুটা বেচাকেনা ছিল। তবে এখন যতদিন যাচ্ছে, তত বেচাকেনা কমছে। এবার ঈদেও ছেলেদের পছন্দের তালিকায় ছিল পাঞ্জাবি -পাজামা।
আলতাফ বস্ত্রালয়ের প্রোপাইটর লিটন হোসেন বলেন, অধিকাংশ মেয়েরায় কিনছেন থ্রি-পিস। কেউ কেউ শাড়িও কিনছেন। ৬০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত থ্রি-পিসের কালেকশন আছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, এবার ঈদে বাচ্চাদের পোশাক বেচাকেনা বেশি হচ্ছে। অভিভাবকরা নিজেরা না কিনে বাচ্চাদের খুশি করতে পোশাক কিনছেন।
কুমারখালী সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী রুমানা খাতুন বলেন, পোশাকের দাম অনেক বেশি। বাজেট ফেল করার মতো। তবুও দুই হাজার ৩৫০ টাকায় একটি থ্রি-পিস কিনেছি।
দাম যেমনই হোক। পাঞ্জাবী ছাড়া তো আর ঈদ জমে না। তাই এক হাজার ৭০০ টাকায় একটি পাঞ্জাবি এবং ৪০০ টাকায় পাজামা কিনেছি বলে জানালেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান।
সাধারণত মানুষ প্রথম দিকে পোশাক কেনায় ব্যস্ত থাকেন। এবং শেষের দিকে কসমেটিকস কিনে থাকেন। ২০ রমজানের পর থেকে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে বেচাকেনা বাড়বে বলে মনে করছেন গণমোড় এলাকার ধ্রুবতারা কসমেটিকসের প্রোপাইটর স্বপন হোসেন। তিনি বলেন, গতবারের চেয়ে প্রতিটি পণ্যে মান ও আকার ভেদে ৫০-৭০ টাকা দাম বেশি। দরকষাকষি করে সীমিত লাভে বিক্রি করা হচ্ছে।
২০ রমজানের পর থেকেই বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলছে। প্রতিদিন প্রায় দেড় কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে বলে জানান কুমারখালী বণিক সমিতির সভাপতি কে এম আলম টমে।
কুমারখালী থানার ওসি মো. সোলায়মান শেখ বলেন, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের জানমালের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশি টহল অব্যাহত রয়েছে। যাত্রীরা যেন নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছতে পারেন, সেই লক্ষ্যে কাজ করছে পুলিশ।
খবরওয়ালা/আরডি