খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা আবদুর রহিম কে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী বিবি ফাতেমা গত সোমবার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানা তে মামলা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি এবং তাদের অনুসন্ধান চলছে।
ঘটনা ঘটেছে গত শনিবার রাত প্রায় ১০টার দিকে। রসুলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলেরহাট রাস্তার মাথায় আবদুর রহিমকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আবদুর রহিম ওই ওয়ার্ডের যুবলীগ আহ্বায়ক ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত, তারা জাতীয় নির্বাচনে ভোলা-৪ আসনে (মনপুরা ও চরফ্যাশন উপজেলা) জয়ী বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলাম (নয়ন) এর অনুসারী।
তবে চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক কামাল গোলদার স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ধরনের রাজনৈতিক সংযোগের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, নিহতের হত্যাকাণ্ড মূলত মাদক কারবার এবং ভাগ–বাঁটোয়ারার বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “ঘটনায় বিএনপি বা নুরুল ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। যারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তারা মূলত মাদক ব্যবসায়ী।”
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, “মামলায় সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। আমরা তাদের দ্রুত ধরার চেষ্টা করছি। এখনও পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার হয়নি।” পুলিশ পুরো এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছে।
নিচের টেবিলে ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম | আবদুর রহিম |
| বয়স | আনুমানিক ৩৫ বছর |
| পদ | রসুলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ আহ্বায়ক |
| ঘটনার স্থান | কলেরহাট রাস্তার মাথা, রসুলপুর ইউনিয়ন, চরফ্যাশন |
| ঘটনার সময় | শনিবার রাত ১০টা |
| মামলা দায়েরকারী | বিবি ফাতেমা (নিহতের স্ত্রী) |
| মামলা দায়ের স্থান | শশীভূষণ থানা, চরফ্যাশন |
| আসামির সংখ্যা | ৭ জন |
| গ্রেপ্তার | নেই |
| ঘটনার পেছনের সম্ভাব্য কারণ | মাদক কারবার ও ভাগ–বাঁটোয়ারার বিরোধ |
| রাজনৈতিক জড়িতের অভিযোগ | প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি |
স্থানীয়রা আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ। বিভিন্ন মহলের দাবি, দ্রুত ও ন্যায্য বিচার হওয়া প্রয়োজন। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এই হত্যাকাণ্ড চরফ্যাশন উপজেলা ও ভোলা-৪ আসনের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় নাগরিকরা শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের তৎপরতা কামনা করছেন।
এভাবে ঘটনাটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিশ্লেষণ নয়, বরং স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমের প্রতি নজর দেওয়ার বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।