খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর তরুণ মো. হাছান (২৩) ভাগ্য বদলের স্বপ্ন নিয়ে দেড় বছর আগে লিবিয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছিলেন, কিন্তু তার সেই ইতালির পথে যাত্রা এখন মর্মান্তিক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
লিবিয়া থেকে ইতালিগামী একটি মানবপাচারকারী ট্রলার ভূমধ্যসাগরে ডুবে যাওয়ার পর থেকে গত ছয় দিন ধরে তিনি নিখোঁজ। ছেলের খোঁজ না পেয়ে তার বাবা-মা এখন পাগলপ্রায় অবস্থায় প্রহর গুনছেন, কেবল বেঁচে থাকার একটি আশায়।
হাছান সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের আমিন উল্যাহ ও মমতাজ বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট হাছান পরিবারের অভাব ঘোচাতে এবং একটি ভালো জীবন গড়তে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
জানা গেছে, দেড় বছর আগে হাছান লিবিয়ায় পৌঁছান এবং সেখান থেকে নিয়মিত পরিবারকে টাকা পাঠাতেন। গত বুধবার (২ জুলাই) রাতে পরিবারের সবার কাছে দোয়া চেয়ে ফোন করে জানান যে, তিনি ট্রলারে করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাচ্ছেন। কিন্তু সেই ফোনের পর গত পাঁচ দিন ধরে তার কোনো খোঁজ মেলেনি।
হাছানের মা রহিমা আক্তার গণমাধ্যমকে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমি ড. ইউনূস স্যারের হস্তক্ষেপ চাই। আমার ছেলের কথা আমি ছয়দিন শুনি না। আমি কাঁদতে কাঁদতে পাথর হয়ে গেছি। আমার চোখে রক্ত জমে গেছে। আমার ছেলে কোথায়? আল্লাহ আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দাও।”
হাছানের বাবা আমিন উল্যাহ গণমাধ্যমকে বলেন, “শুনেছি ৬০ জন মানুষ নিয়ে ট্রলারটি ভূমধ্যসাগরে পাড়ি দিতে যায়। অনেকে উদ্ধার হয়েছে আবার অনেকে নিখোঁজ আছে। হাছানের নিখোঁজের খবরে বাড়িতে শোকের মাতম বইছে। আমার ছেলে কই আছে, বাঁচলো না মরল, কিছুই জানি না।”
হাছানের দুলাভাই মো. বাবলু জানান, ইতালি যাওয়ার কথা বলে ৫ লাখ টাকা কিস্তিতে নিয়ে তাকে পাঠিয়েছিলেন তার বাবা-মা। সন্তানের নিখোঁজের ঘটনায় পুরো বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকার মসজিদ ও মাদ্রাসায় তার জন্য দোয়া হচ্ছে। হাছানের পরিবার স্থানীয় প্রশাসন ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে। তারা চায়, যেভাবেই হোক, নিখোঁজ হাছানসহ অন্যদের বিষয়ে সঠিক তথ্য জানানো হোক এবং উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।
নোয়াখালী জেলা ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. খুরশীদ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, হাছানের পরিবার তার সন্ধান চেয়ে আমাদের কাছে একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছে। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছি। তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছরে লিবিয়া হয়ে অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে বহু বাংলাদেশি তরুণ ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারিয়েছেন। দালালচক্রের প্রতারণা, ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা এবং সঠিক তদারকির অভাব এই মৃত্যুর মিছিলকে দীর্ঘতর করেছে। এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে এখনই আমাদের সচেতন হতে হবে। সমাজের প্রতিটি স্তরে মানবপাচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
খবরওয়ালা/টিএস