খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে ভাদ্র ১৪৩১ | ১ই সেপ্টেম্বর ২০২৪ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ ভেড়ামারায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে সন্ত্রাসী পবন-রতন-পিপুল কে গ্রেফতার’র দাবী বিএনপি নেতাদের। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন এখন আতঙ্কের জনপদে পরিনত হয়েছে। দীর্ঘ ১৬ বছর অস্ত্রের মুখে মানুষ কে জিম্মি করে রাখার পর, আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসী চেয়ারম্যান সোহেল রানা পবন, তার ভাই রুবেল মাহমুদ রতন, বুলবুল হাসান পিপুল তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে এখনো সশস্ত্র অবস্থায় এলাকা দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। ইয়াবা, মাদক ব্যবসা, মনোমহন বিড়ি থেকে চাঁদা আদায়, বালুর ঘাট, রায়টা ঘাট সহ নদী পথের কোটি কোটি টাকার ব্যবসার নিয়ন্ত্রন ধরে রাখতে তারা এখনো মরিয়া।
গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আড়কান্দি গ্রামে প্রায় ৪’শ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বাড়ি ঘর ভাংচুর করে। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাদের গ্রেফতার’র দাবী করে সাংবাদিক সম্মেলন করে ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির। অন্যাথায় ভেড়ামারা অচল করে দেওয়ার হুমকি দেয় নেতারা। আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র মহড়ার প্রেক্ষিতে আজ দুপুর ১২টার দিকে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের আড়কান্দি গ্রামে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন সাধারন সম্পাদক এবং ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ্যাড. তৌহিদুল ইসলাম আলম সাংবাদিকদের বলেন, ৫ অগাষ্ট নতুন করে দেশ স্বাধীন হলেও বাহাদুরপুর ইউনিয়ন স্বাধীন হয়নি।

ওই দিনই সন্ত্রাসী পবন, রতন, পিপুল এই ৩ ভাই’র নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে বাজারে গুলি করে আছান, আছানের ছেলে সহ ৪ জন ছাত্র জনতাকে গুলিবৃদ্ধ করে আহত করে। যার মামলা এখনো প্রক্রিয়াধীন। এই সন্ত্রাসীদের নেতৃত্বে যুব নেতা নজরুল, লেলিন হত্যা হয়েছে। বাহাদুরপুর’র মানুষ ল্যাংটা করে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করেছে এরা। অস্ত্র দেখিয়ে জিম্মি করে চাঁদা আদায় ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা যেভাবে গুলি করে রামরাজত্ব কায়েম করেছিল। এই সন্ত্রাসীরাও সে ভাবে বাহাদুরপুরে রামরাজত্ব কায়েম করেছে। এরা এতো বড় সন্ত্রাসী, যে ভাড়ায় কাজ করে। ৩ এবং ৪ অগাষ্ট কুষ্টিয়াতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে কুষ্টিয়ায় গিয়ে মিছিলে গুলি করেছে।
কুষ্টিয়া থানাতেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা মুহু মুহু গুলি চালিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অনেক বাড়ি ভাংচুর করেছে। ভেড়ামারা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ডাবলু বলেন, বাহাদুরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহেল রানা পবন’র নেতৃত্বে স্থানীয় এবং বাহিরের সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেল শো ডাউন করে আড়কান্দি, মাধবপুর এলাকার মানুষের মাঝে আতংক সৃষ্টি করার লক্ষে ব্যাপক গুলি বর্ষন করে। তারা এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কষন করছি, তাদের এখনই প্রতিহত করতে হবে। চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জানবার হোসেন বলেন, ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান’র বাবাও একজন সন্ত্রাসী ছিল। সে সিরাজ বাহিনীর সদস্য ছিল।

সেই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ ১৬ বছর মানুষ কে তারা জিম্মি করে নির্যাতনের পথ বেঁছে নিয়েছিল। এখনো তারা এলাকায় অস্ত্র প্রদর্শন করে সন্ত্রাস কায়েম করতে চায়। কিন্তু তাদের আর সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করতে দেওয়া হবে না। ছাত্র জনতা বিএনপি তাদের প্রতিহত করবে। ভেড়ামারা কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি আবু মোহাম্মদ নূরুদ্দীন নূরু ভিপি বলেন, সন্ত্রাসী পবন, রতন, পিপুল তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে এখনো এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। গতকাল রাতে তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র দিয়ে প্রায় ৪শ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে।
বাড়ি ঘর ভাংচুর করেছে। আমাদেরও তাদের প্রতিহত করার সক্ষমতা আছে। কিন্তু আমাদের নেতা তারেক রহমান এবং এ্যাড তৌহিদুল ইসলাম আলমের নির্দেশে দলীয় নেতা কর্মীরা শান্ত রয়েছে। তিনি প্রশাসন কে আল্টিমেটাম দিয়ে ঘোষনা দেন, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে সন্ত্রাসী পবন, রতন , পিপুল কে গ্রেফতার করুন। তা না হলে এদের কে আমরা প্রতিহত করবো। তিনি যৌথ বাহিনীর কাছে দাবী করেন, ওই ৩ সন্ত্রাসীর ভান্ডারে বিপুল পরিমান অস্ত্র রয়েছে। দ্রুত অস্ত্র গুলো উদ্ধার করে এলাকায় শান্তি প্রতিষ্টা করার দাবী জানান।
আরও দেখুন: